ঢাকা বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

Mountain View



মধুপুরে ২০ হাজার টাকা জরিমানায় ধর্ষণের বিচার!

Print Friendly, PDF & Email

এস. এম. সবুজ (মধুপুর প্রতিনিধি): মাত্র ২০ হাজার টাকা বকেয়া জরিমানা, কানে ধরে উঠবস আর কয়েক ঘা জুতা পেটা করে শিশু ধর্ষণের বিচার করলেন স্থানীয় মাতাব্বরগণ। অদ্ভুত এ বিচার হয়েছে টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের চাড়ালজানী এলাকায়।

rape02

মধুপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাইট গার্ড নারায়ণ চন্দ্র গৌড় (৫০)’র বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ওই বিচার নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মধুপুর পৌর শহরের চাড়ালজানীতে ধর্ষিত শিশুর মামার বাসায় এ বিচার বসে। বিচারে উপস্থিত থাকা একাধিক ব্যক্তি গণমাধ্যমের কাছে ওই বিচারকে প্রহসণের নামে ধর্ষককে রক্ষার কৌশল বলে অভিহিত করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, গত ১৭ মে বিকেলে মধুপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাইট গার্ড নারায়ণ চন্দ্র গৌড়(৫০) একই এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে চিপসের লোভ দেখিয়ে স্কুল ক্যাম্পাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন। আহত অবস্থায় শিশুটির মা ঘটনাস্থল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতে রেখেই সেবা করে কিছুটা স্বাভাবিক করেন। ওই পিতৃহীন শিশুর পরিবার বিষয়টি স্থানীয় ২/১ জনের কাছে জানালে তারা বিচারের কথা বলে ঘটনাটিকে চেপে রাখতে বলেন। সময় গড়িয়ে গেলেও তেমন কোন উদ্যোগ দেখতে না পেয়ে দরিদ্র ওই পরিবারের সদস্য বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে জানালে সভাপতি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। মৌখিক অভিযোগ পেয়ে সভাপতি গত বুধবার বিকেলে নারায়ণ গৌড়কে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে স্থানীয় উদ্যোগে বিচার বসানোর কথা থাকলেও পরের দিন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় শিশুটির বাড়িতে বিচার বসে। বিচারে ২০ ঘা জুতার বাড়ি, কান ধরে উঠবস ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার ঘোষণা হয়। বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন মধুকে ১০ ঘা জুতা পেটা করার পর থামিয়ে দেয়া হয়। দুইবার কান ধরে উঠবস করতেই থামিয়ে দেয়া হয় নারায়ণকে। আর জরিমানার বিশ হাজার টাকা রাখা হয় বাকি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধর্ষিত শিশুটির মামা প্রথমে জরিমানার টাকা বাকি রাখার কথা স্বীকার করলেও পরক্ষণে রহস্যজনক কারণে প্রাপ্তি স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে ওই বিচারে অংশ নেয়া স্থানীয়  কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন জরিমানার কথা অস্বীকার করেছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পরিমল কান্তি গোস্বামী সাংবাদিকদের জানান, গার্ড নারায়ণ চন্দ্র গৌড়কে ডিউটি বন্ধ করে দিয়েছি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

ফেসবুক মন্তব্য