ঢাকা মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮

Mountain View



মধুপুরে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী যৌন হয়রানীর অভিযোগ, শিক্ষককে বাঁচাতে স্কুল পরিচালনা কমিটির নানা কৌশল

Print Friendly, PDF & Email

মধুপুরে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ, ফেসবুকে তোলপাড়, শিক্ষককে বাঁচাতে স্কুল পরিচালনা কমিটির নানা কৌশল, বিচারপ্রার্থী অভিভাবক রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ

এসএম সবুজ, মধুপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি ঃ- টাংগাইলের মধুপুরে শিক্ষক কর্তৃক নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর ওই শিক্ষককে বাঁচাতে স্কুল পরিচালনা কমিটির প্রভাবশালী একটি অংশ নানা কৌশল চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিচার প্রার্থী হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে অভিভাবক এখন রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ রয়েছেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও কয়েকদিনে নানাজনে পোস্ট ও বিভিন্নরকম মন্তব্য করেছেন।

sexual herrasmment

ঘটনাটি মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ি ইউনিয়নের ব্রাক্ষণবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে। ওই বিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কম্পিউটার শিক্ষক মো.মোকলেসুর রহমান দ্বারা ওই ছাত্রী যৌন হয়রানি শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফেসবুকে মধুপুর নিউজ নামের এক ফেইক আইডি, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, ওই ছাত্রীকে কম্পিউটার শিক্ষক মো. মোকলেসুর রহমান প্রেম নিবেদনের নামে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও নানা লোভে ফুঁসলাতেন লম্পট ওই শিক্ষক। নিজের বিবাহিত জীবনের কথা গোপন রেখে শেষ অবধি তিনি ওই ছাত্রীর সাথে কথিত প্রেমের সম্পর্ক গড়েন। পরে স্কুল ক্যাম্পাসে ফাঁক পেলেই অবৈধ সর্ম্পকে লিপ্ত হবার নানা চেষ্টা করেন মোকলেসুর। প্রাইভেট পড়ানো ও বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির বই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের সময় তিনি ভিকটিমকে কাছাকাছি পেয়ে নানা সুযোগ গ্রহণ করতেন। তার দেয়া চিরকুট, চিঠিপত্র ও টাকা গ্রহণে ওই ছাত্রীকে বাধ্য করতেন।

বিষয়টি জানার পর গত ৬ মে (বুধবার) ভিকটিমের পিতা ওই শিক্ষক মোকলেসুরের দেওয়া প্রেমপত্রসহ নানা প্রমাণাদি নিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. ইয়াসিন আলী ও ফরহাদ হোসেনের কাছে এসে বিচার প্রার্থী হন। ওইদিনই তারা একত্রে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমানের কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করলে প্রধান শিক্ষকের আশ্বাসে তারা ফিরে আসেন।

কিন্তু অভিযোগের ৪দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় পুনরায় ১০ মে রবিবার মির্জাবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো.আলাউল ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ এলাকার ৩০/৪০ জন তরুণ একই অভিযোগ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে আবারও আশ্বাস দেয়া হয়।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি , প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, সহকারি প্রধান শিক্ষক সুলতান হোসেন বি.এসসি, শরীর চর্চা শিক্ষক আজাহারুল ইসলামসহ একটি গ্রুপ মোকলেসুর রহমানের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিষয়টি ধাপা চাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন এমনটা এলাকাবাসী জানিয়েছেন বলে ফেইসবুকের উল্লেখিত আইডি’র পোস্টে দাবি করা হয়েছে।

আলহাজ আহমেদ শুভ নামের জনৈক ফেসবুকের ওই পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন, “যারা বিচার করবেন তারা এগিয়ে না, তারা ঘুষ খেয়েছেন।” তার প্রশ্ন “কে বিচার করবে বলুন?” সুবর্ণা খন্দকার নামের আর একজন লিখেছেন, “শিক্ষক নামের কুলাঙ্গার এর বিচার হওয়া উচিত।” জাপান প্রবাসী হারুন অর রশীদ, জনৈক টোটন দাসও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই দেখে এলাকায় একটা চাপা উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইতোপূর্বে দুটি বিয়ে করা মোখলেসুরের বিচার দাবিতে সোচ্চার। তারা প্রথমে লাইব্রেরীয়ান ও পরে কম্পিউটার শিক্ষক পদে বিতর্কিত নিয়োগ পাওয়া ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন। এ নিয়ে শিক্ষর্থীদের মাঝেও আছে চাপা উত্তেজনা। যে কোন সময় অপ্রীতিকর কিছু ঘটার আশংকা করছেন কেউ কেউ।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জনৈক সদস্য বিষয়টি স্বীকার করে জানান, অভিযুক্ত মোখলেস অপরাধ স্বীকার করে সংশ্লিষ্টদের কাছে ক্ষমা চেয়ে এ যাত্রায় রক্ষা পেতে চাইছেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান গণমাধ্যম কর্মিদের জানান, আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেসবুক মন্তব্য