,


ধনবাড়ীতে সেচ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত, দুদকে অভিযোগ

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল বিএডিসি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সুভাষ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে সেচ প্রকল্পের ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে সেচ স্কীম ম্যানেজার দু’দকের টাঙ্গাইল জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, সরকার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র অচল নলকূপ সচল করণের মাধ্যমে সুলভ সেচের ব্যবস্থা করেছেন। বিগত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে বিএডিসি’র এ প্রকল্পের অধীনে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি দণি পাড়া গ্রামে ১১২নং গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য সুভাষ এন্টারপ্রাইজকে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। ওই সেচ প্রকল্পে ঠিকাদার কোন কাজ না করলেও বিএডিসি’র টাঙ্গাইল জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূরুল ইসলামের সহযোগিতায় চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করে ১০ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ৩০ জুন এই চুড়ান্ত বিল পাশ করা হয়।এদিকে, কাজ না করায় ওই গভীর নলকূপ স্কীমে চলতি বোর মৌসুমে সেচ স্কীম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্কীমের আওতাধীন শতাধিক একর জমি অনাবাদি রয়েছে।

এ ব্যাপারে ১১২নং গভীর নলকূপ স্কীমের ম্যানেজার এমদাদুল হক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টাঙ্গাইল জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে প্রতিকার চেয়ে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক সরকারি অর্থ আত্মসাত বিষয়ে দুদক/সজেকা/টাঙ্গাইল/৭৬ নং স্মারকে বিএডিসি টাঙ্গাইল জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক দু’দককে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা জানান, বিষয়টি নিয়ে বিএডিসি’র প্রকৌশলীর সাথে তিনি কথা বলেছেন। তিনি তাকে(প্রকৌশলী নূরুল ইসলামকে) কৃষকদের এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য অনুরোধ করেছেন।

এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর ফারুক আহমাদ জানান, ১১২নং গভীর নলকূপ স্কীমের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান না হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে রয়েছে। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য বিএডিসিকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সুভাষ এন্টারপ্রাইজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

অভিযুক্ত বিএডিসি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম জানান, কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে আনা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও আরও দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে টাঙ্গাইল বিএডিসি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দী গ্রামের আদর্শ কৃষক আরফান আলি মাস্টার টানা চার দশক ধরে ওই গভীর নলকুপটির পরিচালনা করে আসলেও উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বিপুল উৎকোচের বিনিময়ে পাড়ার দুই সেনা সদস্য এমদাদুল হক ও সেলিমুল ইসলামকে জালিয়াতির মাধ্যমে ম্যানেজার ও সভাপতি করে গোপনে স্কিম পরিচালনা কমিটি দাঁড় করায়। বিএডিসির ঠিকাদার ভূগর্ভস্থ সেচনালা ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামোগত কাজ করতে গেলে চাষিরা টের পান।

এ ব্যাপারে কৃষক আরফান মাস্টার সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মীর ফারুক আহমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি ফয়সালার জন্য গ্রামের কৃষকদের উপজেলা অফিসে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত কৃষকদের সম্মতির ভিত্তিতে আরফান আলীকে ম্যানেজার এবং তোরাপ আলীকে সভাপতি করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট স্কিম পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। নির্বিঘ্নে ও সুলভে সেচ পরিচালনার স্বার্থে উপজেলা চেয়ারম্যান মীর ফারুক আহমাদ এ নতুন কমিটিকে অনুমোদন দিয়ে বিএডিসিকে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ করেন। কিন্তু বিএডিসি উপজেলা সেচ কমিটির এ সুপারিশ বাস্তবায়নে তালবাহানা শুরু করে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে নানা সমস্যা তৈরি করে পূর্বের সাজানো কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ চালানোর চেষ্টা করে বিএডিসি।

ভুক্তভোগী প্রতারিত কৃষক আরফান মাস্টার জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অচল নলকুপটি সচলকরণ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি আর অনিয়ম করা হচ্ছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে দুই সেনা সদস্যকে স্কীম পরিচালনার জন্য মনোনীত করে কৃষকদের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। আর সর্বশেষ প্রকল্প স্থাপনার কোনো কাজ না হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে বিল পাশ করিয়ে দিয়েছেন। প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের দুর্নীতিতে সাধারণ কৃষকরা  বিপদে পড়েছে। অনাবাদী থেকে গেছে শতাধিক একর জমি।

 

Comments

comments