,


কালিহাতী উপজেলা নির্বাচনে বড় দুই দলেই বিদ্রোহী প্রার্থী

Print Friendly, PDF & Email

জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। পাড়া-মহল্লা, হাট-ঘাট, হোটেল-রেস্তোরাঁয় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জনসহ ১৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার (মোটরসাইকেল), বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী (দোয়াত-কলম), অপর বিদ্রোহী প্রার্থী টাঙ্গাইল জেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক সোলায়মান হাসান (ঘোড়া) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত শফিকুল ইসলাম তালুকদার (কাপ-পিরিচ), বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি শুকুর মাহমুদ (চিংড়ি) ও অপর বিদ্রোহী প্রার্থী ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়র ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কৃষিবিদ এসএমএ খালিদ (আনারস) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী (দোয়াত-কলম) সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তার প্রতীক দোয়াত-কলমে ভোট না দেয়ার জন্য উপজেলাবাসীর প্রতি অনুরোধ করেছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মুক্তিযোদ্ধা আ. মজিদ তোতা (উড়োজাহাজ), বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদ সিদ্দীকী (মাইক), বিএনপি সমর্থিত উপজেলা সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম শোভা (চশমা), বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো (টিয়াপাখি), জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সমর্থিত মনিরুজ্জামান মতিন (টিওবয়েল) ও স্বতন্ত্র মোবারক হোসেন (তালা) এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোয়ারা বেগম (কলস), বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা সালমা খাতুন (ফুটবল) ও বিএনপির হাবিবা হোসেন (হাঁস) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তিনটি পদের বিপরীতে ১৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সবার আগ্রহ চেয়ারম্যান পদের দিকে। এ পদে বর্তমান চেয়ারম্যান হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও নিজস্ব বলয়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশের অপেক্ষার কথা বলে কব্জা করে রেখেছেন। তবে তার অনুসারী নেতাকর্মীদের একটি অংশ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শুকুর মাহমুদের (চিংড়ি) পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির প্রতি তার (সোহেল হাজারীর) অসন্তোষের কারণে নেতাকর্মীরা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শুকুর মাহমুদ (চিংড়ি)’র পক্ষে কাজ করলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভোটের ফলাফলে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন, যতই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকুন, মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। ভোট গ্রহণের আগ মুহূর্তে কালিহাতীর নেতাকর্মী-সমর্থকরা যার যার দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মরণ লড়াইয়ে নামবেন।

অপরদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক থাকার পরও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবু নাসের নেতাকর্মী-অনুসারীদের নিয়ে দলীয় প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদারকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পালা ভারী হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তারা মনখুলে কথা বলতে পারছেন না। তারা সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। তরুণের নামে অপরিপক্ক বা বিজ্ঞতার নামে ব্যক্তি জীবনে অসফল কাউকে তারা ভোট দেবে না।

বাংড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান জানান, এর আগে তরুণ নেতৃত্বকে ভোট দিয়ে ছেলের বয়সী কর্মীদের অনেক বেয়াদবি সহ্য করেছেন। আর নয়। জনসাধারণ এবার বিজ্ঞ রাজনীতিককেই নির্বাচিত করবে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই এ উপজেলায় প্রার্থীদের ভোট প্রার্থনা, বিভিন্ন ধর্মীয়-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণসহ উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার, পাড়া-মহলা পোস্টারে ছেয়ে গেছে। প্রতিদিনই প্রার্থীদের শো-ডাউন চলছে। কালিহাতী উপজেলায় ২ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৬ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৩ এবং মহিলা ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৩ জন। আগামী ২৩ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Comments

comments