,


গোপালপুর উপজেলা জুড়ে ছিনতাই আতঙ্ক! বেপরোয়া ছিনতাইকারী-ডাকাতরা

Print Friendly, PDF & Email

কে এম মিঠু, নিজস্ব সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌর শহরসহ পুরো উপজেলা ঘিরে ধরেছে ছিনতাইকারী ও নানা রকমের চোর ডাকাতরা। পৌর শহরের প্রবেশ মুখ ভুয়ারপাড়া, কালাঠাকুরের পুকুর পাড় এরিয়া, পাগলা বাজার, মাকুল্যা রোড, আভুঙ্গী, চরপাড়া, সূতী বলাটা মোড়, পাকুয়া এরিয়ায় খোদ দিনের বেলাতেই ঘটছে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা। আর সন্ধ্যার পরেই গ্রামগঞ্জ থেকে আসা নিরীহ মানুষেরা ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে মোবাইল, টাকা, সাইকেলসহ স্বর্বস্ব হারিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। যার ফলে গোপালপুর শহর দিন দিন মানুষ শূন্য হয়ে পড়ছে। এতে করে ব্যবসায়ীমহলও পড়েছে চরম বিপাকে।

স্থানীয় কাজীবাড়ি মসজিদের মোয়াজ্জিন শফিকুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে অভিযোগ করে জানান, গতকাল সন্ধ্যার পরপরই জরুরী কাজে আমি সাইকেল নিয়ে ঝাওয়াইলের উদ্দ্যেশে রওনা হলে ভুয়ারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পিছন থেকে এক ছিনতাইকারী আমার সাইকেল টেনে ধরে। সাইকেল থেকে নামা মাত্রই রাস্তার পাশে ওৎ পেতে থাকা ৪/৫জন ছিনতাইকারী আমার মোবাইল, টাকা, সাইকেল কেড়ে নেয়। সাইকেলটি না দিতে চাইলে জোড়াজোড়ির এক পর্যায়ে প্রথমে চর থাপ্পর ও একটু দূরে নিয়ে গিয়ে আরও ৫/৬জন পথচারীর সঙ্গে আমাকে বেধে রেখে পালিয়ে যায়।

 সাজানপুর গ্রামের মজিবর রহমান ও বাচ্চু মিয়া ক্ষোভ করে বলেন, আমাদের বাড়ি থেকে গোপালপুর বাজার মাত্র দুই কিলোমিটারের রাস্তা হলেও ছিনতাইকারীর ভয়ে আমরা পাশ্ববর্তী মধুপুর উপজেলায় হাট বাজার করতে যাই।

গোপালপুর কলেজের ছাত্র শিমলা গ্রামের রউফ বলেন, সহপাঠিদের মোবাইল ছিনতাই হওয়াতে ছিনতাইকারীদের ভয়ে আমিসহ আমরা ক’জন শিক্ষার্থী নিয়মিত কলেজে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছি। কেননা এসব ছিনতাইকারীরা প্রথমেই টার্গেট করে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা গ্রামের সাধারণ মানুষদের।

ডুবাইল পালপাড়া গ্রামের মোতালেব মিয়া জানান, গত দু’তিন দিনে এই এলাকা থেকে ৮ টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। যার আনুমানিক মূল্য ৪ লক্ষ টাকা।

শুধু পৌর শহরই নয়, গোপালপুর উপজেলা প্রায় সর্বত্রই চুরি ছিনতাই অসম্ভব রকম বেড়ে গেছে। নদী ভাঙন কবলিত এলাকা সোনামুই, ভরুয়া এলাকাতেও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ব বেড়ে গেছে। সন্ধ্যা নামলেই রাস্তায় ভ্যান, রিক্সা, সিএনজি চলাচল করতে দেখা যায় না। সন্ধ্যার পরে রাস্তায় গাছের খন্ড ফেলে সিএনজি রিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের চড় থাপ্পড় দিয়ে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। কিছুদিন আগে  সোনামুই সংলগ্ন এলাকা থেকে অস্ত্রসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও বন্ধ হয়নি ডাকাতি ও ছিনতাই। গ্রামের বাজারগুলোও সন্ধ্যা নামার পরই জনমানব শূন্য হয়ে পড়েছে।

এছাড়া যমুনার কুলঘেষা নদীভাঙন কবলিত মানুষগুলোও নিরাপত্তাহীন ভাবে বসবাস করছে। মাঝরাতে নৌকা নিয়ে ডাকাতদল এসে গবাদীপশুসহ,নগদ অর্থকড়ি, অলঙ্কার, ও দামী আসভাবপত্র লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় এলাকার লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে রাত্রি জেগে পাহারা দিচ্ছে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে।

 এ ব্যাপারে গোপালপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে গোপালপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি কালিহাতি থানা থেকে এখানে নতুন এসেছি। এসেই দেখি এই থানায় সব কিছু মিলিয়ে এক অসান্ত পরিবেশ। আশা করছি কিছু দিনের মধ্যেই সুস্থ্য পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। গোপালপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার,  ধরা ও পাকড়াও অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন সন্ত্রাসী, মাদকাসক্ত ও ছিনতাইকারীকে ধরে জেলহাজতে প্ররণ করা হয়েছে।

Comments

comments