,


টাঙ্গাইলের আবাসিক হোটেলগুলো মিনি পতিতালয়ে পরিণত হচ্ছে!

Print Friendly, PDF & Email

মুহা. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :টাঙ্গাইলের আবাসিক হোটেলগুলোতে চাইলেই যৌনকর্মী পাওয়া যাচ্ছে। ফলে হোটেলগুলো মিনি পতিতালয়ে পরিনত হচ্ছে! প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরনো টাঙ্গাইলের কান্দাপাড়া পতিতাপল্লীর যৌনকর্মীরা শহরে ছড়িয়ে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জানাগেছে, টাঙ্গাইলের হোটেল ও আবাসনগুলোর তথ্য জেলা প্রশাসকের তথ্য বাতায়নে পাওয়া না গেলেও টাঙ্গাইলে অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউজ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যবসা চালাচ্ছে। শহরের ভাসমান যৌনকর্মীদের দিয়ে গোপণে পতিতাবৃত্তিও চালানো হচ্ছে। দিনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের লিভ টুগেদারের উৎকৃষ্ট স্থান আবাসিক হোটেল। তবে শহরের কয়েকটি আবাসিক হোটেল সব সময়ই বোর্ডারদের জন্য উৎকৃষ্ট হিসেবে পরিচিতি আছে।

একটি বেসরকারি সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী টাঙ্গাইল শহরে ভাসমান পতিতা রয়েছে দুই শতাধিক। এদের অধিকাংশই বিভিন্ন বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করে এবং খদ্দের নিয়ে সুবিধামত স্থানে গিয়ে বিশেষ করে আবাসিক হোটেলে যৌনকর্ম করে থাকে। আবাসিক হোটেল মালিকদের সাথে তাদের রয়েছে গোপন আঁতাত। এসব ভাসমান পতিতাদের সাথে যোগ হয়েছে কান্দাপাড়া থেকে বিতারিত(!) যৌনকর্মীদের একটি বিরাট অংশ। ফলে সাধারণ বোর্ডারদের অবস্থানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে আবাসিক হোটেলগুলো। শহরের নিম্নমানের আবাসিক হোটেলগুলো এক প্রকার মিনি পতিতালয়ে পরিনত হয়েছে।

সরেজমিনে শহরের কাব রোডের ১টি, মেইন রোডের ১টি, ভিক্টোরিয়া রোডে ২টি, মসজিদ রোডে ১টি এবং জেলা সদর রোডের বটতলায় ২টিতে অবাধে পতিতাবৃত্তি চালানো হচ্ছে। এসব আবাসিক হোটেলগুলোতে ৪-৭ জন করে যৌনকর্মী রাখা হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল ৪-৫টা পর্যন্ত চলে নিষিদ্ধ ব্যবসা। মাঝখানে ৩/৪ ঘন্টা বিরতি দিয়ে রাতের শিফট শুরু হয়। রাতের শিফটে যেসব খদ্দেররা সারা রাত অবস্থান করে শুধু তাদেরকেই সুযোগ দেয়া হয়। এসব আবাসিক হোটেলে মদ, গাঁজা, ইয়াবা সহ সব ধরণের মাদক পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশ না করে এক হোটেল মালিক জানান, যারা আবাসিক হোটেলে পতিতাবৃত্তি চালায় তারাই পুলিশ তথা প্রশাসনের কাছে ভাল; কারণ তারা সপ্তাহান্তে টাকা দেয়। বাড়তি হিসেবে জৈবিক চাহিদা মেটানোর সুযোগ তো আছেই। তিনি ওইসব আবাসিক হোটেলগুলো বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে মতামত প্রকাশ করেন।

টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আক্তারুজ্জামান জানান, আবাসিক হোটেলে পতিতাবৃত্তি চালানোর বিষয়ে তাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কান্দাপাড়া পতিতাপল্লীর যৌনকর্মীরা কোথায় গেছেন তা তিনি জানেন না, কিছু সংখ্যক যৌনকর্মী শহরে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

শুক্রবার(৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের জেলা সদর রোডের বটতলা কাঁচা বাজারের পাশে দেখা হয় কান্দাপাড়া পতিতাপল্লী থেকে বিতাড়িত(!) যৌনকর্মী বাবলীর(১৪) সাথে। মুখে মাত্রাতিরিক্ত মেকআপের পরিবর্তে মলিনতার ছাপ স্পষ্ট। সে জানায়, কান্দাপাড়ায়ই তার জন্ম, মায়ের নাম রাবেয়া। আলেয়া সর্দারনীর বাড়িতে তার ঘর ছিল। বর্তমানে কোথায় থাকে এবং কোথায় কেন এসেছিল জানতে চাইলে প্রথম প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে বলে, বটতলার আবাসিক হোটেল অনিক-এ এসছিল সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে। সারাদিনে ১৬টি কাজ(যৌনকর্ম) হয়েছে। ১৬ কাজের(যৌনকর্মে) মধ্যে ২ জন পুলিশ থাকায় তারা টাকা দেয়নি। আর ১৪টি কাজে খদ্দেরদের কাছ থেকে পেয়েছে(৩০০ টাকা হারে) ৪ হাজার ২০০ টাকা। ওই টাকা থেকে সে পেয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। ১ হাজার ৪০০ টাকা অনিক হোটেল মালিককে দিতে হয়েছে রুমের ভাড়া হিসেবে। বাকি ১ হাজার ৪০০ টাকা হোটেল মালিক রেখে দিয়েছে পুলিশ ও ঝামেলা সৃষ্টিকারীদের জন্য। সে আক্ষেপ করে জানায়, সারাদিনে ১৪টি কাজ করে যে টাকা পেয়েছে তার অর্ধেক যদি হোটেল মালিক দিত তাহলে পরিবারের কয়েকদিনের খরচ হতো। প্রায় একই কথা জানায়, পতিতাপল্লীর লেবুর বাড়ির পারভিনের মেয়ে লাকী(১৫), আলেয়ার বাড়ির নয়নতারার মেয়ে মনি(১৬)। এক প্রশ্নের উত্তরে তারা জানায়, আবাসিক হোটেলের মালিক বেশি টাকা নিচ্ছে-সামাজিক পরিবেশ তো নষ্ট হচ্ছেই। তাছাড়া তাদেরও তো খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতে হবে।

প্রকাশ, টাঙ্গাইল অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির আন্দোলনের মুখে গত ১২ জুলাই রাতে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া পতিতাপল্লীর যৌনকর্মীরা চলে যেতে শুরু করে। কেউ কেউ রাতেই পতিতাপল্লী ছেড়ে চলে যায়। পরদির ১৩ জুলাই সকালে মুহুর্তেই খালি হয়ে যায় পতিতাপল্লীর ৫৬টি বাড়ির ৮০৩টি ঘর। সটকে পড়ে পতিতাপল্লীর ৯৯১ জন যৌনকর্মী।

Comments

comments