পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন তরুণীকে হোটেলে নিয়ে আসার অভিযোগে আব্দুল জলিল (২২) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কুয়াকাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হোটেল মারওয়া থেকে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১০টায় তাকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক কুয়াকাটা পৌর এলাকার ইনছান আলীর ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিলের স্ত্রী এবং সন্তান থাকা সত্বেও টিকটকে নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে কুয়াকাটার বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে আসতেন। আজকেও (বৃহস্পতিবার) হোটেল মারওয়াতে ওই পরিচয় দিয়ে হীরা আক্তার (১৬) নামে একটি মেয়ে নিয়ে কক্ষ ভাড়া নেন।পরবর্তীতে মহিপুর থানার এসআই মাসুদের নেতৃত্বাধীন একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করেন। এর আগেও তিনি একই ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাস্থলে তার স্ত্রী মোছা. তামান্না (২০) উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী (১৬) ও তার বাবা (৪০) সাক্ষ্য দেন।
এ বিষয় ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, আরাম সঙ্গে তার পরিচয়ের পর থেকেই তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর অফিসার দাবি করেন। বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর পোশাক গায়ে একাধিক ছবি আমাকে পাঠাতেন। আমিও আস্তে আস্তে বিশ্বাস করতে শুরু করি। এভাবেই আমাদের সম্পর্কটা তৈরি হয়। কিন্তু তিনি যে এত বড় প্রতারক তা আজকে জানলাম। আমি তার কঠিন বিচার চাই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক বলেন, জলিল দীর্ঘদিন ধরে টিকটকে নিজেকে সেনাবাহিনী পরিচয় দিয়ে একাধিক মেয়েদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তাই সরকারি অফিসার হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দান পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় তাকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
কেউ নিজেকে সেনাবাহিনী বা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা সরকারি যে কোনো কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করলে বা প্রতারণা করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনকে জানানোর দাবি জানান তিনি।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:২০ অপরাহ্ণ