ইরান যুদ্ধ : সামরিক সহযোগিতা চাইলেন ট্রাম্প, করছে দক্ষিণ কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম এশীয় মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে সামরিক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; আর তার এই চাওয়া পর্যালোচনা করছে সিউল।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক ‘কিউংহিয়াং শিনমুন’-এর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

গত কাল ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার কিউংহিয়াং শিনমুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সিউল নিজেদের জলদস্যু দমন বাহিনী চেওংহে ইউনিটের কার্যক্রম পরিধি বাড়ানোর ব্যাপারটি বিবেচনা করছে। ২০০৯ সালে এডেন উপসাগরে মোতায়েন করা হয়েছিল এই বাহিনী। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার এই বাহিনীর কার্যক্রম ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে। ওমান উপসাগর হরমুজ প্রণালির সঙ্গে সংযুক্ত।

কোনো সূত্রের নাম উল্লেখ না করে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং-এর প্রশাসন চেউংহে বাহিনীর মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। বর্তমান মেয়াদ এই বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরকার ওই অঞ্চলে কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে একটি ফ্রিগেট (যুদ্ধজাহাজ) পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে পত্রিকাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই ইউনিটের কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয়ে পার্লামেন্টে কোনো প্রস্তাব পাঠানো হবে কি না, তা সরকার পর্যালোচনা করছে।

জলদস্যু-বিরোধী ইউনিটের কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিস্তারিত বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে বিবৃতিতে আর বলা হয়েছে, এডেন উপসাগরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং গত বছরের তুলনায় সেখানে জলদস্যুদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কোরীয় সম্প্রচারমাধ্যম ওয়াইটিএন এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ‘চেওংহে’ ইউনিটে ৪,৪০০ টন ওজনের একটি ডেস্ট্রয়ার (যুদ্ধজাহাজ), একটি সামুদ্রিক হেলিকপ্টার, তিনটি পর্যন্ত রিজিড-হাল ইনফ্ল্যাটেবল বোট (দ্রুতগামী ছোট নৌকা) এবং প্রায় ৩০০ জন সামরিক সদস্য রয়েছেন।

কিছুদিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান-কেন্দ্রিক যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তাকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে সমালোচনা করেছেন। এছাড়া, এই গ্রীষ্মে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে—একটি পদক্ষেপ যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশটিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

প্রেসিডেন্ট লি ১৮ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন যে, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে এমন কোনো সামরিক সম্পদ মোতায়েন করবেন না যা দক্ষিণ কোরিয়াকে কোনো সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তবে তিনি এও জানান যে, ওই অঞ্চলে নৌ-চলাচল নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে সিউল আরও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।

সূত্র : রয়টার্স

সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোড, দেউলাবাড়ী, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল-১৯৮০। মোবাইল : +৮৮০১৭৬৪-২৬৬৪৭৫

প্রিন্ট করুন