মোট ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ ও মজুতের অনিয়মের অভিযোগে কুড়িগ্রাম খাদ্য বিভাগের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম জেলা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরী।
মামলার আসামিরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরীফ আহমেদ, তৎকালীন সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার তৎকালীন খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হালিমুর রহমান এবং কুড়িগ্রামের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। নথিবহির্ভূত চাল মজুতের ঘটনায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(খ) ধারায় পৃথক অভিযোগও আনা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহের নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুত যাচাইয়ে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া গেছে। নথিতে থাকা চালের সঙ্গে বাস্তব মজুতের ঘাটতি, সংগ্রহ করা ধানের হিসাবের অসংগতি এবং বিল পরিশোধের পরও গুদামে খাদ্যশস্য না পাওয়ার ঘটনা রয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ গুদামে অভিযান চালায়। অভিযানে চাল ও ধানের মজুত, খাদ্যশস্য সংগ্রহ এবং বিল পরিশোধসংক্রান্ত নানা অসংগতির প্রমাণ পায় দলটি।
দুদকের হিসাবে, এসব অনিয়মের মাধ্যমে চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে প্রায় ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন।
কুড়িগ্রাম সদরের শিশু নিকেতন স্কুলসংলগ্ন গুদামের পশ্চিম গেটের কাছে নথিবহির্ভূতভাবে ১১৯ মেট্রিক টন চালের মজুতও পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। চালগুলোর মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৯ টাকা। চাল সংগ্রহ, ওজন, মজুত কিংবা পরিবহনসংক্রান্ত বৈধ কোনো নথি দেখাতে পারেননি শরীফ আহমেদ বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আমলে নেওয়া হবে।
মামলার বাদী মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘অভিযানের পর আমরা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলাম। সম্প্রতি প্রধান কার্যালয় থেকে মামলা দায়ের করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।’
মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক বলেন, ‘মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছে জানলাম। এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’
অন্য তিন আসামির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক ছাড়া অন্য তিন কর্মকর্তা বদলি হয়ে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত আছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:৩৮ অপরাহ্ণ