দুই হাত কেড়েছে দুর্ঘটনায়, কেড়ে নিতে পারেনি স্বপ্ন—

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ৩:১০ অপরাহ্ণ

একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে দুই হাত, কিন্তু কেড়ে নিতে পারেনি স্বপ্ন দেখার সাহস। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে পা দিয়ে লিখেই এসএসসির পর এবার এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মেধাবী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাব্বি। তার লক্ষ্য, ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণে উচ্চশিক্ষা নিতে চান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

রাব্বি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাসিন্দা বজলুর রহমানের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালে ভাটিয়ারীর হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায়ও একই ফল অর্জন করেন তিনি।

রাব্বির জীবনের কঠিন অধ্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজে একটি বৈদ্যুতিক তারে আটকে বিদ্যুৎস্পর্শ হন তিনি। এতে তার দুই হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রাণে বেঁচে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত হারাতে হয় দুই হাত।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকের কাছেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু রাব্বি হার মানেননি। দুর্ঘটনার পর মুখ দিয়ে লিখে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুখ দিয়ে লিখেই লেখাপড়া করেন তিনি। পরে দ্রুত লেখার জন্য পা দিয়ে লেখার কৌশল আয়ত্ত করেন। সেই পা দিয়েই পরীক্ষার খাতায় নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন রাব্বি।

তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা। রাব্বি জানান, দুর্ঘটনার পর মা-বাবা, শিক্ষক ও বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে সাহস জুগিয়েছেন। স্থানীয় সাংবাদিকেরাও বিভিন্ন সময়ে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সহযোগিতার পথ তৈরি করেছেন।

তবে রাব্বির পথচলা সহজ ছিল না। তার বাবা বজলুর রহমান জানান, অভাব-অনটনের সংসারে তিনি ও তার স্ত্রী দৈনিক মজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছেলের চিকিৎসা ও পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় রাব্বির চিকিৎসা ও লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। আইসিডিডিআর’বির গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌস কাদেরী তার পড়াশোনার খরচ বহন করে আসছেন। পাশাপাশি ওসমান নামের এক শিক্ষক তাকে বিনা মূল্যে কোচিং করিয়েছেন।

রাব্বির পরিবারের আরেকটি সুখবর হলো, তার বোন রোকাইয়া আক্তারও এবার রাউজার ভাটিয়ারী বিজয় সরণি কলেজের বাণিজ্য বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

দুই হাত হারানোর পরও রাব্বি থেমে যাননি। বরং প্রতিকূলতাকে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে চলেছেন স্বপ্নপূরণের পথে। তার অর্জন শুধু একটি জিপিএ-৫ নয়, বরং হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যেও হাল না ছাড়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোড, দেউলাবাড়ী, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল-১৯৮০। মোবাইল : +৮৮০১৭৬৪-২৬৬৪৭৫

প্রিন্ট করুন