শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন-ইয়াসের খান চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ৮:৩৩ অপরাহ্ণ

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশে দুর্ভিক্ষ, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। সেই ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর কারণেই দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঘড়িকিনুন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ যখন হুমকির মুখে পড়েছিল এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য ও কর্মী হিসেবে তাঁরা গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা এখনো চলছে। একটি মহল দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে তৎপর রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

জনসভায় আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হতে হবে। শিশু, নারী ও পুরুষ হত্যাসহ গণহত্যার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। মানচিত্রদেখুন

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশের বিপুল অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা, গ্রেপ্তার, গুম ও হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ও হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের কর্মকাণ্ডের বিচার এড়ানোর সুযোগ নেই। অভিযুক্তদের দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। প্রয়োজনে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ নতুন করে স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি করেছে। জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের কথা বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মানচিত্রদেখুন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোথাও কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন নিজের হাতে না তুলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিতে হবে। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জনসভায় নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ইতিমধ্যে ১৮৬টি রাস্তা ইটের সোলিং করা হয়েছে। আরও ১০৪টি রাস্তা ইটের সোলিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সড়ক পুনঃসংস্কারের জন্য সাড়ে ১১ কোটি টাকার বরাদ্দ আনা হয়েছে। তাঁর দাবি, ময়মনসিংহ জেলার অন্য কোনো উপজেলায় এ পরিমাণ বরাদ্দ আসেনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিকতায় নান্দাইলবাসীর জন্য এসব উন্নয়ন বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মানচিত্রদেখুন

গৃহহীন মানুষের আবাসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা নারীদের জন্য ইতিমধ্যে ৩৬টি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর আরও ১০৪টি ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ও চর বেতাগো এলাকায় বিভিন্ন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, নান্দাইলের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করার দায়িত্ব পেয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি কাজ করে যেতে চান।

জনসভায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, সদস্যসচিব এনামুল কাদির ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল খায়ের বাবুলসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোড, দেউলাবাড়ী, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল-১৯৮০। মোবাইল : +৮৮০১৭৬৪-২৬৬৪৭৫

প্রিন্ট করুন