এবারের ঈদেও সড়কে মৃত্যুর মিছিল, দায় কার?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬ । ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

দেশের সড়কগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তবে প্রতিবছর ঈদ এলেই যেন সড়কগুলো আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এবারের ঈদুল আজহার যাত্রাতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে একের পর এক দুর্ঘটনা। বিশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থা ও বেপরোয়া গতি ফিরতি যাত্রা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লোক দেখানো অভিযানে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
ঈদযাত্রায় টাঙ্গাইলে সামান্য অর্থ সাশ্রয়ের আশায় ঝুঁকি নিয়ে রডবাহী ট্রাকে চড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ শ্রমিক। অন্যদিকে, নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়া স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ কাঁধে নিয়ে এক ব্যক্তির ছুটে চলার দৃশ্য নাড়া দিয়েছে পুরো দেশকে।

কোথাও যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়েছে, কোথাও আবার ট্রাক ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে গেছে একাধিক প্রাণ। যাত্রীরা বলছেন, ওভারটেকিংয়ের সময়ই বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বাস চালানোর কারণে এসব দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদযাত্রায় ১৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪১ জন নিহত এবং ৫৪০ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিগত ঈদগুলোর তুলনায় এবার দুর্ঘটনা কিছুটা কম মনে হচ্ছে। তবে যে পথে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় যাতায়াত করা সম্ভব, সেখানে ১৪ ঘণ্টা সময় লাগা একেবারেই অস্বাভাবিক।

আরও পড়ুন: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

অন্যদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, চালকের ক্লান্তি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল।

বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, নিয়ন্ত্রণকারী ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা কাঠামোতেই ত্রুটি রয়েছে। এই কাঠামো দিয়ে কোনোভাবেই নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা বছর কার্যকর নজরদারির অভাবেই সড়কে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না। কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। যোগাযোগ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, সড়কের এসব অব্যবস্থাপনা সারা বছর ধরে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নজরদারিতে রাখতে হয়। শুধুমাত্র অভিযাননির্ভর কার্যক্রম দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ না করলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে না।

মহাসড়কে অনেক যানবাহনের গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি, যদিও নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ গতি ৮০ কিলোমিটার। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, দ্রুত গতি, ওভারটেকিং এবং প্রতিযোগিতামূলক যান চালানোই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঈদের তুলনায় এবার এখন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার কিছুটা কম হলেও বেপরোয়া যান চলাচল কমেনি। ফলে ফিরতি যাত্রা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোড, দেউলাবাড়ী, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল-১৯৮০। মোবাইল : +৮৮০১৭৬৪-২৬৬৪৭৫

প্রিন্ট করুন