সন্তান জন্মের তৃতীয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মা, নবজাতক আইসিইউতে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
সন্তান জন্মের তৃতীয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মা, নবজাতক আইসিইউতে

সন্তান জন্ম দেওয়ার তিন দিনের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন হালিমা বেগম। একই দুর্ঘটনায় তাঁর নবজাতক সন্তানসহ পরিবারের চার সদস্য আহত হয়েছেন। নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হালিমা বেগম উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী রাজু মিয়ার স্ত্রী। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন হালিমার মা রুবেনা বেগম, শাশুড়ি শাহেনা বেগম, শ্বশুর আনহার মিয়া, ননদ ইমা বেগম ও অ্যাম্বুলেন্সচালক মুহিবুর রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে তাজপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন হালিমা। গতকাল নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট নগরের একটি হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা। পরে নবজাতক ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। পথে রাত আটটার দিকে কাশিকাপন এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা হালিমা ঘটনাস্থলেই মারা যান। নবজাতকসহ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হালিমা বেগমের মামা আলাল মিয়া বলেন, অ্যাম্বুলেন্সচালক নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। নবজাতকের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে স্থানীয় একটি ক্লিনিক থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আলাল মিয়া জানান, প্রবাসী রাজু মিয়া তাঁর বড় বোনের ছেলে। প্রায় এক বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আরেক বোনের মেয়ে হালিমাকে বিয়ে করেন রাজু। বিয়ের প্রায় চার মাস পর তিনি আবার প্রবাসে চলে যান। গত শুক্রবার তাঁদের ঘরে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। এটাই তাঁদের প্রথম সন্তান। সন্তান জন্মের খবরে খুব খুশি হয়েছিলেন রাজু। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হলো না।

স্ত্রী–সন্তানের এমন অবস্থার কথা শুনে সৌদি আরবে থাকা রাজু মিয়াও ভেঙে পড়েছেন বলে জানান তাঁর মামা আলাল মিয়া। তিনি বলেন, সন্তান জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় স্ত্রীকে হারিয়েছেন রাজু, নবজাতক সন্তান হাসপাতালের আইসিইউতে। এমন খবর শুনে প্রবাসে রাজু নিজেও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে সেখানে থাকা স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আলাল মিয়া জানান, আজ সোমবার দুপুরে হালিমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আহত অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। এখন পরিবারের সবার একটাই চাওয়া, নবজাতক শিশুটি যেন বেঁচে থাকে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী। এ ঘটনায় ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদটি prothomalo.com/ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যের সঠিকতা ও মালিকানা বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে অনুগ্রহ করে মূল সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।