নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে ফলমূল ও সবজি
সারা বছর স্বাভাবিক সময়ে খুব একটা ফলমূল না কেনলেও পবিত্র রমজান মাসে প্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষই কম-বেশি ফলমূল কিনে থাকেন। ইফতারে অনেকেই ফলমূল পছন্দ করেন। এছাড়াও সারাদিন রোজা রাখার পর ফলমূল শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তবে বাজারে ফলমূলের যে উচ্চমূল্য, তা নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
মাহে রমজান শুরু হতেই বাজারে সবজি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও কিছু কিছু পণ্যের দাম হুড়হুড় করে বেড়ে যাচ্ছে।
টাঙ্গাইলের বিভিন্ন ফলের দোকানে ঘুরে দেখা যায়- তরমুজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মালটা প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, আঙ্গুর প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা, কমলা প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, আপেল প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, বেদেনা প্রতি কেজি ৬০০ টাকা। বিভিন্ন ধরনের খেজুর বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। সাধারণ মানের খেজুর প্রতি কেজি ৩০০–৫০০ টাকায়, তানজেরিয়ার খেজুর ৬০০ টাকা, তিউরেশিয়ার খেজুর ৭০০ টাকা এবং সৌদি আরবের খেজুর ১২০০–১৪০০ টাকা প্রতি কেজি। নাসপাতি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকায় প্রতি কেজি।
পুরাতন আদালত রোডে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক মো. মানিক মিয়া বলেন, ‘সারাদিন রিকশা চালিয়ে মহাজনের জমার টাকা দেওয়ার পর যে টাকা থাকে, সেই দিয়ে বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খাওয়ার বাজারই হয় না। ফলমূল কেনার কথা ভাবা তো দূরের কথা।’
সমবায় মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান রাজু মিয়া বলেন, ‘ফলমূলের দাম আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে।’
টাঙ্গাইলের সবচেয়ে বড় বাজার পার্ক বাজারে দেখা যায়: প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, করলা ১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, লেবু ১৫০–২০০ টাকা, ধনিয়া পাতা ৬০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, টমেটো ৪০–৬০ টাকা এবং ঢেরশ ১৬০ টাকা। এছাড়া ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা, আদা ১৪০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, পেয়াজ ৫০ টাকা, চিনি (সাদা) ১০০ টাকা, চিনি (লাল) ১৩০ টাকা, সয়াবিন ২০০ টাকা, সরিষার তেল ২২০ টাকা, ছোলা ৮০ টাকা, মশুরের ডাল ১২০ টাকা, খেসারির ডাল ৯০ টাকা।
সিরাজগঞ্জে ৩ কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার
সিরাজগঞ্জে ৩ কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার
বিস্তারিত পড়ুন
প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করা মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘সবজি ও তরিতরকারি কেনার জন্য পার্ক বাজারে এসেছিলাম। দাম এত বেশি হওয়ায় প্রয়োজনমতো সবজি ও তরিতরকারি কিনতে পারিনি। বেতন দিয়ে বাসা ভাড়া এবং দুই সন্তান পড়ালেখার খরচ দেওয়ার পর বাজার করার মতো টাকা থাকে না। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা খুবই দুর্বিষহ।’
সবজি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কিছু কিছু সবজির সিজন শেষ হওয়ার কারণে আমদানি কম, ফলে দাম বেড়ে গেছে।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাজার মনিটরিংয়ের জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।








আপনার মতামত লিখুন
Array