সরকার ৮ মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে: যশোরে গোলাম পরওয়ার
সরকার আট মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যা করেছিল, সেই জায়গায় ছাত্রদল-যুবদল বসেছে। শুধু নাম বদলেছে, চরিত্র একই। দ্রব্যমূল্য, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারি, সার, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট তৈরি হয়েছে। ১০ বছরেও যা হয়নি, এই সরকার আট মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে।’
আজ শনিবার সন্ধ্যায় যশোরের মুড়লী মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সব কথা বলেন।
বিএনপির সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আজকের জনতার এই সমুদ্র, জনতার এই ঢল, পদে পদে মানুষের স্লোগান বিএনপিকে একটা বার্তা দিচ্ছে। নির্বাচনের আট মাস পর এখনো আপনার ভাববার সময় আছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনি জাতিকে যে ওয়াদা করেছিলেন, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছেন, ভোট দিয়েছেন, সারা বছর প্রচার করেছেন। ভোট দেওয়ার পরে এখন নিজের ভোটকে নিজেই অস্বীকার করছেন। ”
বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘তারা বলেন-বিরোধী দল নাকি সকালে এক কথা, বিকেলে আরেক কথা বলে। মুনাফেকি করে দেশকে অস্থিতিশীল করে। এই সাত-আট মাসে এমন কী হলো যে লংমার্চ করা দরকার?’
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা পাল্টা প্রশ্ন করি, এই সাত-আট মাসে জনগণের সঙ্গে, গণভোটের গণ রায়ের সঙ্গে এমন কী হলো? পাঁচ কোটি মানুষ গণভোটে ভোট দিয়েছে, আপনিও ভোট দিয়েছেন। আট মাস হলো, এখন আপনি সেই কথা কেন রক্ষা করতে পারেননি? আপনি যদি রক্ষা করতে না পারেন, তাহলে আমাদের লংমার্চ করা দোষের কী?’
জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘এখনো ১১ দল নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছে। আমাদের আমিরে জামায়াত এবং ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, আমরা এখনো নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল আন্দোলন করব। পাঁচ কোটি মানুষ গণভোটে ভোট দিয়েছে। জনমত সৃষ্টি করে জনগণকে বোঝাতে হবে, বিএনপি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আপনারা কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড আর নানান কার্ড ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তি মনে করছেন। কিন্তু আমাদের জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে। সেই কার্ড হলো লাল কার্ড। প্রয়োজনে সেই লাল কার্ড জনগণ আপনাদের দেখাবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে সংসদে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখনো সময় আছে। আগামী ৯ তারিখের সংসদ অধিবেশনে নিজের ভুল স্বীকার করে একদলীয় সংবিধান সংশোধনীর এই বক্সার স্টাইল থেকে ফিরে আসুন। বলুন—আসুন গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেই আলোচনা করি। রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাত তৈরি না করে সংসদে এর নিষ্পত্তি করুন।
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি প্রমুখ।






আপনার মতামত লিখুন