তাহসিফ হত্যা: ফের ৩ দিনের রিমান্ডে বান্ধবী দিশা
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি (২৭) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনিম দিশার (১৯) আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে পুলিশের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
এর আগে, দুপুর ২টা ৩২ মিনিটে তাকে আদালতে হাজির করে। আদালতের হাজত খানায় রাখেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ৩টা ১২ মিনিটে কড়া পুলিশি পাহারায় আসামি দিশাকে এজলাসে তোলা হয়। বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে বিচারক উঠলে শুনানি শুরু হয়।
এজলাসে শুনানিকালে তদন্ত কর্মকর্তা ও বিচারকের দিকে তাকিয়ে শুনানি শোনেন অভিযুক্ত দিশা। আইনজীবী তার পক্ষে শুনানি করলে তিনি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক উত্তর দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এখনো হত্যার কারণ নির্ণয় করা যায়নি, পুরো ঘটনা বের করতে তার আবারও রিমান্ড প্রয়োজন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ফারুক হোসেন ফারুকী জানান, ভিক্টিমের সঙ্গে দিশাকে ২টা রেস্টুরেন্টে দেখা যায়। সেদিন দিশা ও দীপকে পাওয়া যায়। রিমান্ডে ২ জন ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা যে পালিয়ে গেছে তার ভিডিও সাহসের সঙ্গে এই ভিক্টিম করেছিলেন। তিনি না করলে হয়তো আমরা জানতাম না শেখ হাসিনা পালিয়েছেন। এই হত্যার সাথে কারা জড়িত তার পরিপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করতে এই আসামির ৭ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী জামাল উদ্দিন ভূইয়া রিমান্ড বাতিল পূর্বক আদালতে উল্লেখ করেন, আমার আসামি একজন শিক্ষার্থী তাকে ৪ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছিল। তার মাইগ্রেন রয়েছে আমরা রিমান্ড নামঞ্জুর চাচ্ছি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দিশাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয়।
অপরদিকে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত সাউরির বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আজকের রিমান্ড আবেদনে সাতটি কারণ তুলে ধরেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর মধ্যে রয়েছে—ঘটনার দিন তাহসিফ ও দিশার মধ্যে কোনো বিরোধ হয়েছিল কি না, তাদের সম্পর্কের পূর্ববর্তী টানাপোড়েন, হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা এবং দুই আসামির বক্তব্য যাচাই করা। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত দিশার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা তাহসিফের সঙ্গে ঘটনার আগে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ও সময় কাটানোর তথ্য দিয়েছেন। ঘটনার দিন উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’-এ একাধিকবার খাবার খাওয়া এবং রাতে ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যাওয়া এবং মোটরসাইকেলের গ্যারেজে যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন দিশা। বিভিন্ন স্থানে তাহসিফের মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এসব স্থানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা বাকবিতণ্ডা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার আগে তাদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো টানাপোড়েন ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি কিছু প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গেছেন বলেও দাবি পুলিশের।
এদিকে, মামলার অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ (২৩) পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। দিশা ও দীপের দেওয়া তথ্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করা প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বা সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারের জন্য দিশাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।






আপনার মতামত লিখুন