স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে : ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী
স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মধ্যে যারা অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আজকে দেশের মধ্যে অরাজকতা তৈরি করছে, বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে—তাদের ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে।’
গুপ্তবাহিনী প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘এই গুপ্তবাহিনী, যাদের সম্পর্কে কথা বলছি, এদের আরেকটা কথা বলি। গত ১৭ বছর যখন স্বৈরাচার দেশের শাসনভার জোর করে ধরে রেখেছিল, মানুষের কণ্ঠস্বর ও ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল; পরে সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যখন ৫ আগস্ট মানুষ বের হয়েছিল, পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। গুপ্তবাহিনীর লোকজন বলল কয়েক দিন আগে যে, তারা যদি আসে, রাজনীতি করে, আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
‘আপত্তি থাকবে কেমন করে?’—প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘বরাবরই তো এরা একসঙ্গে ছিল। সেই ৯১ সালেও তারা একসঙ্গে ছিল, ৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল। গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই তলে তলে কাজ করেছিল। এই জন্যই তো তাদের গুপ্ত বলা হয়।’
গত ১৭ বছর বিএনপির নেতা-কর্মীরা নির্যাতিত হয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা নির্যাতিত হয়েছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জেল-জুলুম, হত্যার শিকার হয়েছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন। শুনেছেন, তাদের ওইসবের শিকার হতে হয়েছিল।’
রাজপথের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজপথে মিছিল করেছিলেন, মিটিং করেছিলেন, হরতাল করেছিলেন—তাদের কাউকে দেখেছিলেন রাজপথে আপনাদের সঙ্গে? তারা রাজপথে কেউ ছিল না। আজকে তারা এবং ওরা যারা পালিয়ে গেছে—এই স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এবং বিএনপি সরকার আজ দিয়ে আমরা প্রমাণ করেছি যে আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। আমরা আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি যে বিএনপি যা বলে, তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করে কাজ করে। আমরা আমাদের কর্মসূচি নিয়ে প্রমাণ করেছি যে বিএনপি সব সময় জনগণের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে।’
দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ-সংক্রান্ত প্রকল্প উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে ফেনীর ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি ৫১০ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি ছিল।







আপনার মতামত লিখুন
Array