তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি, রাশিয়ার পাশে উত্তর কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি, রাশিয়ার পাশে উত্তর কোরিয়া

তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক সহায়তার তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের এমন পদক্ষেপ তাইওয়ান প্রণালিতে অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক কিম মিয়ং চোলের বরাত দিয়ে বলা হয়, তাইওয়ানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের মহড়া ওয়াশিংটনের উসকানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন নীতির প্রতিফলন। তাইওয়ানের নিরাপত্তার অজুহাতে চীনের সামরিক ও জাতীয় শক্তির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ভাবা উচিত বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সম্প্রতি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের প্রথম দুটি জেট দেশটির বহরে যুক্ত হয়েছে। ২০১৯ সালে ৬৬টি যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির অংশ হিসেবে এসব যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হচ্ছে। এর পরপরই উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া এল।

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তর কোরিয়ার এই অবস্থান চীনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। তবে তাইওয়ান নিজেদের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও বেড়েছে। গত জুনে পিয়ংইয়ংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে কিম জং উন ‘এক চীন নীতি’র প্রতি উত্তর কোরিয়ার অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনীতি, আইন প্রয়োগ ও সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতার কথাও জানায় চীন।

তাইওয়ানকে চীন তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করে এবং দ্বীপটির সঙ্গে অন্য দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক ও সামরিক যোগাযোগের বিরোধিতা করে। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও নিজস্ব আইনি কাঠামোর আওতায় তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়ার সঙ্গেও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি একই সময়ে সামনে এসেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনে পাঠানো এক বার্তায় কিম জং উন মস্কোর প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার লড়াই চূড়ান্ত বিজয়ে শেষ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

২০২৪ সালের জুনে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে।