জীবনযুদ্ধ থেমে নেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গণি মিয়ার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:০৪ অপরাহ্ণ
জীবনযুদ্ধ থেমে নেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গণি মিয়ার

চোখে আলো নেই টানা ১৮ বছর। তবুও হাত থেমে নেই আব্দুল গণি মিয়ার। বয়সের ভার, অন্ধত্ব কিংবা অসুস্থ স্ত্রী—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

৬৭ বছরের গণি মিয়ার বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বুড়িচালা গ্রামে। সংসারে আছেন ৬২ বছরের স্ত্রী হাউসি বেগম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে শয্যাশায়ী। ফলে সংসারের ভার কাঁধে নিয়েছেন একাই গণি মিয়া।

একসময় তার দৃষ্টি ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখে ঝাপসা দেখা শুরু হয়। অবশেষে ১৮ বছর আগে পুরোপুরি হারান দৃষ্টিশক্তি। তবে অন্ধ হলেও দমে যাননি তিনি।

গণি মিয়া কখনো ভিক্ষার ঝুলি তোলেননি। বরং বন-জঙ্গল থেকে বাঁশ কুড়িয়ে এনে ইশারায় কেটে তৈরি করেন কুলা, টেপারি ও ঝুড়ির মতো হস্তশিল্প। প্রতিদিন উপজেলার আলিশার বাজারে বসে এগুলো বিক্রি করেন। কাজ করার সময় ধর্মীয় গান বা গজল গেয়ে ভুলে থাকার চেষ্টা করেন নিজের কষ্ট।

দিন শেষে আয় হয় মাত্র ৮০-৯০ টাকা। সেটাই অসুস্থ স্ত্রী ও নিজের ভরসা। সংসারে আর কোনো উপার্জনক্ষম মানুষ নেই।

গণি মিয়ার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। ভেবেছিলেন বিদেশে থাকা ছেলেদের কারণে বার্ধক্যের দিনগুলো স্বস্তিতে কাটবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ছোট ছেলের ঘরে আশ্রয় পেলেও আর্থিক সহযোগিতা মেলে না। কেউই নিয়মিত খোঁজ নেন না কিংবা প্রয়োজনীয় টাকা পাঠান না। ফলে দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করেই চলছে তাদের দিনযাপন।

প্রতিবেশী জাকির হোসেন বলেন, “গণি ভাই খুব পরিশ্রমী মানুষ। চোখে দেখতে পান না, তবুও কখনো কারো কাছে হাত পাতেননি। বাঁশ কেটে কুলা-ঝুড়ি বানিয়ে বাজারে বিক্রি করেন। স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি সহায়তা বা কোনো বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা পেলে ওনাদের জীবনে স্বস্তি আসতো।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ জানান, গণি মিয়াকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও বাঁশ-বেত দিয়ে নানা জিনিসপত্র তৈরি করেন, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

অন্ধত্বের অন্ধকারে থেকেও হাল ছাড়েননি আব্দুল গণি মিয়া। তার প্রতিটি দিন যেন একেকটি শিক্ষা—কষ্ট যতই হোক, শ্রম আর সততাই মানুষকে টিকিয়ে রাখে।