টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ বন্ধ, পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই, আশানুরূপ সেবা পাচ্ছেনা রোগীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ বন্ধ, পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই, আশানুরূপ সেবা পাচ্ছেনা রোগীরা

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০-৪০০ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। এই হাসপাতালে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা আসে চিকিৎসা নিতে। এছাড়াও হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা নিতে আসে গড়ে প্রায় ১০০০ রোগী। কিন্তু হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় আশানুরূপ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না রোগীরা।

Advertisement

২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে জনবল সংকটের কারণে আইসিইউ সেবাও বন্ধ। শুধু সাধারণ মানের কিছু বেসিক টেস্ট করা হয় এই হাসপাতালে, কিন্তু সিটিস্ক্যান, এমআরআই, হরমোন টেস্ট, কালচার, হিস্টোপ্যাথলজি এরকম কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এখানে করা হয় না, কারণ এই পরীক্ষাগুলো করার কোনো সরঞ্জাম নেই এই হাসপাতালে। এছাড়াও মেডিসিন ও সার্জারি পোস্টেট কোনো কনসালটেন্ট নেই এই হাসপাতালে। স্ট্যান্ডার্ড সেটাপে চিকিৎসক প্রয়োজন ১৭৮ জন, কিন্তু এই হাসপাতালে সর্বমোট চিকিৎসক রয়েছে ৪৪ জন। এই হাসপাতালের পাশেই টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নির্মিত হলেও সেটা পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি, যে কারণে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সব সময়ই থাকে।

এছাড়াও দালালদের দৌরাত্ম্যে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয় রোগী ও রোগীর স্বজনরা।

১৯৭৪ সালে নির্মিত হয় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল। তখন ছিলো ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ছিলো, তারপর ১০০ শয্যায় উন্নীত হয় এবং পরবর্তীতে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। সর্বমোট ৪৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে প্রতিদিন বহির্বিভাগে রোগী দেখেন ১৫ জন, ইমার্জেন্সিতে দায়িত্বরত থাকেন ৪ জন। বাকী ২৫ জন চিকিৎসক ইনডোরে ডিউটি করেন।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সর্বমোট ১৪ টি ওয়ার্ড রয়েছে। এরমধ্যে ১নং হচ্ছে প্রসূতি ওয়ার্ড, ২নং হচ্ছে শিশু ওয়ার্ড, ৩ নং গাইনী ওয়ার্ড, ৪নং ওয়ার্ড মেডিসিন (মহিলা), ৫নং ওয়ার্ড মেডিসিন (পুরুষ), ৬নং ওয়ার্ড সার্জারি (পুরুষ), ৭নং ওয়ার্ড সার্জারি (মহিলা), ৮ নং ওয়ার্ড অর্থো (পুরুষ), ৮-এ ওয়ার্ড মহিলা (অর্থো), ৯নং ওয়ার্ড ডায়রিয়া, ১০নং ওয়ার্ড ই এন টি, ১১নং ওয়ার্ড সিসিইউ,১২ নং ওয়ার্ড আইসিইউ, ১৩নং ওয়ার্ড করোনা সাসপেকটেড,১৪ ওয়ার্ড করোনা পজিটিভ। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে আইসিইউ সেবা বন্ধ রয়েছে। অপারেশন থিয়েটার রয়েছে ৪টি ( গাইনী, সার্জারি, অর্থোপিডিক)। হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে ১৩ জন, এরা অফিসিয়াল আউটসোর্সিং হিসেবে কাজ করছে। তবে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রয়োজন ৭৫ জন।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবার বিগত সময়ের চেয়ে মান ভালো, তবে ২৫০ জনের বাইরে খাবার পরিবেশন করা সম্ভব হয় না বলে জানান কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ঔষধের বরাদ্দ রয়েছে, এসব ঔষধ রোগীদেরকে দেওয়াও হয়। তবে অনেক রোগী ঔষধ না পাওয়ার অভিযোগও করেন।

সম্প্রতি গোপালপুর উপজেলার হাদিরা গ্রামের রফিজ উদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। ডাক্তার তাকে ব্রেনের এমআরআই পরীক্ষা করতে বলেন। সদর হাসপাতালে এমআরআই পরীক্ষা করা হয় না, ফলে রফিজ উদ্দিন একটা প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করেন সাড়ে সাত হাজার টাকা দিয়ে। তিনি জানান, এই হাসপাতালে যদি উন্নত পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে রোগীদের ভোগান্তি কমতো এবং বাহিরের প্রাইভেট হাসপাতালের তুলনায় সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে পরীক্ষা করতে পারতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালের আশেপাশের ঔষধের টঙ দোকানগুলোর দোকানদার ও কর্মচারীরা সব সময় হাসপাতালের ইমারজেন্সির সামনে ঘুরঘুর করে। রোগীর স্বজনদের হাত থেকে ঔষধের স্লিপ কেড়ে নিয়ে তাদেরকে ঔষধ নিতে বাধ্য করে এবং ঔষধের দাম বেশি রাখে। প্রতিবাদ করতে গেলে দোকানদার ও কর্মচারীরা দাপট দেখিয়ে কথা বলে। হয়রানির শিকার হোন রোগীর স্বজনরা।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডাঃ খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, স্ট্যান্ডার্ড সেটাপে যে পরিমাণ ডাক্তার ও সহকারী স্টাফ প্রয়োজন সে পরিমাণ না থাকায় আশানুরূপ চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীরা সেবা পাচ্ছে না এমনটাও নয়। যারা চিকিৎসা নিতে আসেন তাদেরকে প্রয়োজনীয় উপযুক্ত সেবা দেয়া হয়।

হাসপাতালটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিন্তু সব সময়ই রোগীর চাপ বেশি থাকে, ফলে সেবাটা আশানুরূপ হচ্ছে না। রোগীদেরকে ঔষধ এবং খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ করা হয়, তবে রোগীর চাপ বেশি থাকলে বেগ পোহাতে হয়। পরিচ্ছন্নতা কর্মী কম থাকায় হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কষ্টসাধ্য হয়ে পরে। প্রয়োজনীয় ডাক্তার, সহকারী স্টাফ, আইসিইউ, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এসব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, সরকার পর্যাপ্তসংখ্যক লোকবলের ব্যবস্থা করলে আশানুরূপ সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।