টাঙ্গাইল সরকারি হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্কের টিকার সঙ্কট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
টাঙ্গাইল সরকারি হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্কের টিকার সঙ্কট

Workflow: {}

টাঙ্গাইলে পোষা প্রাণীর পাশাপাশি বিড়াল, ইঁদুর, শেয়াল, কুকুরসহ বিভিন্ন পশু-প্রাণীর কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রাণীর কামড়ে অসুস্থ রোগীকে হ‍্যাবিস টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে টাঙ্গাইলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে। ফলে, বাইরে থেকে টিকা কিনতে হচ্ছে রোগীদের। যাদের কেনার সামর্থ্য নেই তারা টিকা ছাড়াই অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ২৫০ শয্যার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রতিমাসেই থাকে জলাতঙ্ক রোগের র‍্যাবিস টিকা সংকট। শুধু তাই নয়, সরকারিভাবে আরআইজি টিকা (জলাতঙ্কের আরেকটি টিকা ইমিউনোগ্লোবুলিন) টিকার সরবরাহ বিগত এক বছর ধরে বন্ধ। এসব কারণে নিম্নবিত্ত শ্রেণির রোগীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই ২৫০ থেকে ৩শ’ রোগী আসেন জলাতঙ্কের টিকা নিতে। কিন্তু হাসপাতালে এসে টিকা সংকটে তারা বিপাকে পড়েন। বাধ্য হয়ে বাহির থেকে চড়াদামে এসব টিকা কিনে আনেন রোগী ও স্বজনরা। টিকা ও সিরিঞ্জ কেনার সামর্থ্য যাদের রয়েছে, তারাই জলাতঙ্ক থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। বাকিরা টিকার আওতার বাইরে থাকছেন। সরকারিভাবে টিকার ঘাটতি থাকায় এমন অবস্থা বলছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, প্রাতটি ভ্যাকসিন (চার জনের জন্য) ৪৭০ থেকে ৫শ’ টাকায় কিনে হাসপাতালের নার্সদের দিতে হয়। র‍্যাবিস টিকায় প্রতিডোজে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা খরচ হয়। এভাবে রোগীর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনটি ব‍্যাবিস টিকা ৩৬০-৩৭৫ টাকা খরচ হয়। ওজন ভেদে এক থেকে তিনটি আরআইজি টিকা একসঙ্গে একবার দিতে হয়। এতে রোগী প্রতি আরআইজি টিকা বাবদ খরচ হয় ৮২০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।

সরকারিভাবে এই টিকা বন্ধ প্রায় এক বছর। তবে, এসব টিকা পর্যাপ্ত রয়েছে জেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে। কিন্তু সেখানেও রোগী’ ও স্বজনদের কাছে সংকট দেখিয়ে দ্বিগুণ দাম আদায় করা হচ্ছে। জেলা শহরের অনেকে র‍্যাবিস টিকার সংকট আ সম্পর্কে অবগত নন। পোষা প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রথমে তারা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখান থেকে যখন টিকা কিনে আনতে বলেন, তখন পড়েন বিপাকে। খোদ নার্স ও ওয়ার্ড বয়রা জানিয়েছেন, র‍্যাবিস ভ্যাকসিন বাইরে থেকে আনতে হয়, এটা রোগীদের জানিয়ে দেওয়া হয়। না জানালে পরে এ নিয়ে তর্কাতর্কি হয়।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, তারা জানিয়েছেন, সর্বত্রই ভ্যাকসিন সংকট। চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন পরপর বরাদ্দ পাওয়া যায়, কিন্তু চাহিদা বেশি। এজন্য ভ্যাকসিনের সংকট থেকে যায়। মাত্র ৩শ’-৪শ’ র‍্যাবিস ভ্যাকসিন দেয় সরকারিভাবে, এতে দুইদিনও চলে না।
অবশ্য এ অবস্থা শুধু টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালেই নয়। জেলার ১২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একই অবস্থা। উপজেলাগুলোতে বিড়াল, শেয়াল, ইঁদুর ও কুকুরের কামড়ে আক্রান্তদের ভিন্ন থাকলেও প্রতিষেধকের ব্যবস্থা নেই। কোনো ভ্যাকসিন সেবা নেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। জলাতঙ্কের কোনো সেবা থাকে না সেখানে এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

সংবাদটি tangailnewsbd.comওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যের সঠিকতা ও মালিকানা বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে অনুগ্রহ করে মূল সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।