টাঙ্গাইল-৮ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটের উত্তাপ বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
টাঙ্গাইল-৮ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটের উত্তাপ বাড়ছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে দিন দিন বাড়ছে ভোটের উত্তাপ। হাট-বাজার, চায়ের দোকানসহ জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে এখন আলোচনার প্রধান বিষয়—কে হচ্ছেন পরবর্তী সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসায় ভোটারদের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো।

দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এই আসনে এবারের নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারছে না। ফলে একাধিক দল ও প্রার্থী মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এতে ভোটের সমীকরণ জটিল হয়েছে এবং সম্ভাব্য ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা।

১৯৯১ সালের পর থেকে টাঙ্গাইল-৮ আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থীকে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী করতে পারেনি। একই সময়ে আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য কোনো দলও জয় পায়নি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ধারাবাহিকতা ভাঙার সুযোগ দেখছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তবে দলীয় পর্যায়েই তার প্রার্থীতা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক ও অসন্তোষ। তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা দাবি ও নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগেও তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারলে ফল তার অনুকূলে যেতে পারে বলে মনে করছেন দলের একাংশ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও এই আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দলটির মনোনীত প্রার্থী বাসাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা শফিকুল ইসলাম খান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজস্ব ভোটব্যাংকের বাইরে অন্যান্য ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে পারাই তার চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তার প্রতি ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাসাইল ও সখীপুরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারদের সমর্থন পাওয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে আলোচনায় রয়েছেন লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গত প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি সখীপুর ও বাসাইল উপজেলায় স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা দিয়ে আসছেন। শীতবস্ত্র বিতরণ ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে এলাকায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে সুসংগঠিত দলীয় কাঠামো না থাকায় দুই উপজেলায় জয়ী হওয়া তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবুও তার সমর্থকদের দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সখীপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ হাবিব। প্রবীণ এই রাজনীতিক নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

খেলাফত মজলিস (দেয়ালঘড়ি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম। জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) থেকে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হাসান রেজা। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির (কোদাল) মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা সাধারণ সম্পাদক আউয়াল মাহমুদ।

সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে দিন যত গড়াচ্ছে, ভোটের উত্তাপ তত বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মুকুট কার হাতে উঠবে—সেদিকেই তাকিয়ে আছেন বাসাইল ও সখীপুরের ভোটাররা।