টাঙ্গাইলে বিএনপির চ্যালেঞ্জ, চমক দেখাতে চায় জামায়াত
রাজনৈতিক ইতিহাসে টাঙ্গাইল একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় পর্যন্ত এ জেলার বহু রাজনৈতিক নেতা জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এলেই টাঙ্গাইলকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ থাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের আটটি আসনে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছেন। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে চমক দেখাতে চায় জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টিসহ অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তবে তারা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার মতো আলোচনায় আসতে পারছেন না বলে মন্তব্য ভোটারদের।
Kiswan
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলা নিয়ে ৮টি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে ১১টি পৌরসভা ও ১২০টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৬৩টি। মোট ভোটকক্ষ ৬ হাজার ৩৪১টি। টাঙ্গাইলে মোট ভোটার ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৯৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৩৫১ জন। নারী ভোটার ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৮২২ জন, হিজড়া ভোটার ২৫ জন।
Google News গুগল নিউজে প্রতিদিনের বাংলাদেশ”র খবর পড়তে ফলো করুন
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও মাইকিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সুশাসন ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে।
টাঙ্গাইল-১
মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে টাঙ্গাইল-১ আসন গঠিত। দুটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন রয়েছে এ আসনে। এখানে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৪৮টি এবং ভোটকক্ষ ৮৪০টি। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৪২৪ জন, আর হিজড়া ভোটার ২ জন।
১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবুল হাসান চৌধুরী, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির আব্দুস সালাম তালুকদার, একই সালের জুন আওয়ামী লীগের আবুল হাসান চৌধুরী নির্বাচিত হন। তারপর ২০০১ থেকে টানা আওয়ামী লীগের আব্দুর রাজ্জাক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
এবার এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর অ্যাডভোকেট মুহম্মদ আলী (মোটরসাইকেল), জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম (তালা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হারুন অর রশীদ (হাতপাখা)।
টাঙ্গাইল-১ আসনে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। তার সঙ্গে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন মোহাম্মদ আলী। যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। পরে আপিলের মাধ্যমে তিনি মনোনয়ন ফেরত পান। ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের জন্য মূল বাধা হতে পারেন স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আলী। সেক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল ইসলাম কর্নেল আজাদ নামে এলাকায় পরিচিত। বিপুল অর্থের মালিক হওয়ায় তিনিও নির্বাচনে ফ্যাক্টর হতে পারেন। বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বিগত সময়ে আমি আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছি। ফলে আমি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে আমার সব কাজ হবে মানুষের কল্যাণে।
টাঙ্গাইল-২
টাঙ্গাইল-২ আসন গোপালপুর ও ভূঞাপুর নিয়ে গঠিত। এ আসনে রয়েছে দুটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪ হাজার ২৭১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৪২৬ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ১৮৩ জন। হিজড়া রয়েছেন ১ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৮ এবং ভোটকক্ষ ৮০০টি।
১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও আব্দুস সালাম পিন্টু নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে সাবেক সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আব্দুস সালাম পিন্টু ফের নির্বাচিত হন।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু। এ আসনে বিএনপির অন্য কেউ প্রার্থী হননি, ফলে দলের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে মাঠে নেমেছেন। এক্ষেত্রে নির্বাচনে শক্তিশালী প্রার্থী তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর টাঙ্গাইল জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির দলের মনোনীত প্রার্থী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সানোয়ার হোসেন সাগর এবং জাতীয় পার্টির হুমায়ুন কবীর তালুকদার রয়েছেন। এরা সবাই দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদের সমর্থন ও ভোট পাওয়ার জন্য।
বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের নির্যাতনের শিকার হয়ে যারা ধ্বংসের পথে গেছে তাদের রক্ষা করতে হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মাদকাসক্তদের ফিরিয়ে এনে কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করতে হবে। এ ছাড়া রাস্তাঘাটের উন্নয়নও করা হবে। তারপর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, জাতি নতুন কিছু ও পরিবর্তন চাচ্ছে, এজন্য আমি আশাবাদী। রাজনৈতিক সহনশীলতা, দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা হবে। উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সহনশীল মনোভাব দরকার সে চিন্তা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টাঙ্গাইল-৩
ঘাটাইল উপজেলা নিয়েই গঠিত টাঙ্গাইল-৩ আসন। এখানে ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২২ এবং ভোটকক্ষ ৭১৩টি। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮২ হাজার ৭২০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৪ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৪৩ জন। তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) রয়েছেন ৩ জন।
১৯৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদের কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের শামসুর রহমান খান।
এ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। এখানে বিএনপির প্রার্থী হলেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির। বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। ঘাটাইলে রাজনীতির মাঠে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এ ছাড়া তিনি এমপি ও মন্ত্রী থাকা অবস্থায় এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। দলের প্রবীণ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকে নিরাপদ মনে করেন। ধানের শীষ বলতে তারা লুৎফর রহমান খান আজাদকেই বোঝান।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন দলের জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি ও ঘাটাইল উপজেলার সাবেক আমির হুসনী মোবারক বাবুল। তিনি শেষপর্যায়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ১ নম্বর যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন আইনিন নাহার।
বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির বলেন, মাদকমুক্ত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য উন্নয়নসহ সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিক ঘাটাইল গড়ে তোলা হবে। বেকারদের জন্য শিল্পকারাখানা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
টাঙ্গাইল-৪
টাঙ্গাইল-৪ আসনও একটি উপজেলা (কালিহাতি) নিয়ে গঠিত। ২টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১১৪ এবং ভোটকক্ষ ৬৮৪টি। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৭ জন। এ আসনে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯২৪ জন। নারী ভোটার ১ লাখ চার হাজার ৯৬৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন তিনজন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে শাহজাহান সিরাজ টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হন। পরে তিনি জাসদ থেকে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকেই আবার নির্বাচিত হন। পরে ৯৬ সালের জুন মাসের সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে লতিফ সিদ্দিকী বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় শাহজাহান সিরাজ বিএনপি থেকে জয় লাভ করেন।
টাঙ্গাইল-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ও এ আসন থেকে কয়েকবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী (হাঁস), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম মিঞা (মোটরসাইকেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আলী আমজাদ হোসেন (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী (লাঙ্গল)।
ভোটাররা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অতীত নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত। একাধিকবার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী থাকার সুবাদে তার ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক রয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন দলীয় সাংগঠনিক শক্তিকে মূল ভরসা হিসেবে দেখছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করতে পারেন, তাহলে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন বলেন, কালিহাতীর সার্বিক উন্নয়নই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপন, কৃষি ও ঐতিহ্যবাহী তাঁত খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কালিহাতীর গণমানুষের বিজয় ও ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য মানুষ ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় আমাকে ভোট দেবে ইনশাআল্লাহ।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর)
একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৫ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৩০ এবং ভোটকক্ষ ৯১০টি। মোট ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ১০৭ জন। হিজড়া রয়েছেন একজন।
এ আসনে ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান জয়লাভ করেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টি ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান জয়ী হন। একই সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান এমপি নির্বাচিত হন।
এ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদ। তারা তিনজনই শক্তিশালী প্রার্থী। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা হওয়ায় জেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে টুকুর অতিরিক্ত প্রভাবও রয়েছে।
টাঙ্গাইল সদরের পশ্চিমের বড় একটা অংশ যমুনা ও ধরেশ্বরী নদীর চরাঞ্চল। অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের গ্রামের বাড়ি সেই চরে। চরাঞ্চলের একচেটিয়া সমর্থন তারপক্ষে আসার সম্ভাবনা দেখছেন তার নেতাকর্মীরা। তা ছাড়া অতীতের তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। এবার তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন দল তাকেই মনোনয়ন দেবে। কিন্তু সেটা না হওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
জামায়াতের প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই এ আসনে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন। দলও তাকে মনোনয়ন দেয়। তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপকভাবে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
বাংলাদেশ কংগ্রেসর প্রার্থী একেএম শফিকুল ইসলাম (ডাব), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খন্দকার জাকির হোসেন (হাতপাখা), গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার (মাথাল), জাতীয় পার্টির মোজাম্মেল হক (লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলাম (ট্রাক), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপির মো. হাসরত খান ভাসানী (একতারা) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা (তারা) প্রতীক নিয়ে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপির প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইল সদরের সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ। যমুনা নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মাহমুদনগরে ব্রিজ স্থাপন, শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে কাজ করব।
স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) ফরহাদ ইকবাল বলেন, আমি রাজনীতিকে দেখি সেবার জায়গা থেকে, ক্ষমতার নয়। আমি দুর্নীতিমুক্ত সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রতিনিধিত্ব উপহার দিতে চাই। মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদ বলেন, মানুষের মানসিকতার উন্নয়ন করতে চাই। দুর্নীতিমুক্ত দেশ দেখতে চাই। সদরের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করতে চাই। মানুষের কাছাকাছি যাচ্ছি, ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তারা এবার নতুনকে দেখতে চায়।
টাঙ্গাইল-৬
নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৬ আসন। এখানে ২০টি ইউনিয়ন থাকলেও কোনো পৌরসভা নেই। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৫৪ এবং ভোটকক্ষ ৮৮৪টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৬ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৮ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ৪৭৪ জন। হিজড়া ভোটার ৪ জন।
১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নানকে পরাজিত করে বিএনপির আবু তাহের জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের খন্দকার আব্দুল বাতেন বিএনপির গৌতম চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও বিএনপি প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তীর কাছে হেরে যান তিনি।
এ আসনে ভোটের সমীকরণটা বেশ জটিল। এখানে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আউয়াল লাভলু। বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দলের নির্বাহী কমিটির সভাপতি জুয়েল সরকার (হরিণ)। বিএনপির ভোট তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হতে পারে। এদিকে আওয়ামী লীগের পরিচয় গোপন করে জাতীয় পার্টি-জেপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তারেক শামস খান (বাইসাইকেল)। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (মোরগ)। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফলে এ আসনের আওয়ামী ঘরানার ভোটগুলো তারা দুজন পেতে পারেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোটের ভাগাভাগির সুবিধা পেতে পারেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম আব্দুল হামিদ। তিনি ডাক্তার হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিত।
এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ মামুনুর রহিম (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আখিনূর মিয়া (হাতপাখা) নির্বাচন করছেন।
বিএনপির প্রার্থী রবিউল আউয়াল লাভলু বলেন, মানুষের যদি নৈতিকতা ও চারিত্রিক উন্নয়ন সম্ভব হয়, তাহলে মানুষের সমস্ত ক্ষেত্রেই উন্নয়ন সম্ভব। আমি সে চেষ্টাই করতে চাই। নদীভাঙন রোধ, রাস্তার উন্নয়ন, মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত এলাকা উপহার দেওয়া আমার অন্যতম কাজ হবে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম আব্দুল হামিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নাগরপুর-দেলদুয়ারের মানুষের সঙ্গে থেকেছি। তাদের ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছি। তারা আমাকে দেখেছে, চেনে, জানে। আমার মধ্যে অসৎ পথে উপার্জনের ক্ষুধা নেই। তাই তারা আমাকে বেছে নেবে বলে বিশ্বাস।
টাঙ্গাইল-৭
১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৭ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৬ এবং ভোটকক্ষ ৭২৬টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭১ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৬০ জন, তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ৬ জন।
১৯৯১ সালে খন্দকার বদরউদ্দিন (বিএনপি), ১৯৯৬ সালে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (বিএনপি) এবং ২০০১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত একটানা আওয়ামী লীগের প্রার্থী একাব্বর হোসেন নির্বাচিত হন।
টাঙ্গাইল-৭ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেনÑ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক দুবারের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, জামায়াতে ইসলামীর টাঙ্গাইল জেলা কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির তোফাজ্জল হোসেন (হাতি)। মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে লড়াই হতে পারে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ছাত্র রাজনীতি করে তৃণমূল থেকে উঠে আসা অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদ। তিনি এ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন পেয়ে পাঁচবার নির্বাচনে অংশ নেন এবং দুবার নির্বাচিত হন। ফলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী নির্বাচনে কতটুকু ভালো করতে পারবেনÑ এটিই এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন নতুন হলেও দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন।
বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী এখনও ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলেও শেষ মুহূর্তে তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হয়েছেন। তিনি মূলত তার গ্রামের কিছুসংখ্যক লোক নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে মাঝেমধ্যে কিছু বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন বলেন, এ উপজেলায় দলের প্রায় ৬০ হাজার কর্মী রয়েছে। নতুন প্রার্থী হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচনে ভালো ফলাফলের আশা করছি।
বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, আমি মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছি। তাদের বিপদে-আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমার ওপর তাদের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। এলাকার মানুষ ১৭ বছর ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এই নির্বাচনে সুযোগ এসেছে। মানুষ আমাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবে বলে আশা করছি।
টাঙ্গাইল-৮
টাঙ্গাইল-৮ আসন বাসাইল ও সখীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটি ২টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৩১ এবং ভোটকক্ষ ৭৮৪টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮২৬ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬২ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ২৬৩ জন, আর তৃতীয় লিঙ্গ রয়েছেন ৫ জন।
১৯৯১ সালে এই আসনে বিএনপির টিকিটে নির্বাচিত হয়েছিলেন করটিয়া জমিদার পরিবারের উত্তরসূরি হুমায়ুন খান পন্নী। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও হুমায়ুন খান পন্নী জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জয়লাভ করেন। কাদের সিদ্দিকী ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গেলে সংসদ সদস্যপদ হারান। পরে এ আসনটি শূন্য হলে ১৯৯৯ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে শওকত মোমেন শাহজাহান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন। এ সময় কাদের সিদ্দিকী গঠন করেন নতুন রাজনৈতিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। পরবর্তীতে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাদের সিদ্দিকী।
এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। এর আগে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও এই আসনে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হলেন বাসাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা শফিকুল ইসলাম খান। সখীপুর-বাসাইলে আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকদের ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজস্ব ভোট ব্যাংকের বাইরে যে প্রার্থী এই ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে পারবেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকবেন।
বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে এই আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল (প্রতীক-হরিণ)। বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক এমপি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম সালাউদ্দিন আলমগীরকে দলীয়ভাবে সমর্থন জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের তার জন্য কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হাসান রেজা (লাঙ্গল), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আউয়াল মাহমুদ (কোদাল) প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান বলেন, আমি আমরণ মানুষের সেবা করতে চাই। শাসক না হয়ে সেবক হতে চাই। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার মোতাবেক কাজ করা হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থান, বিদেশগামীদের জন্য ট্রেনিং সেন্টার করাসহ এলাকার নানাবিধ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।






আপনার মতামত লিখুন
Array