রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ দাবি জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি সংসদের যে প্রথম অধিবেশন হবে, সেই অধিবেশনের প্রথম কাজটি হবে ফ্যাসিস্ট সময়ের যে রাষ্ট্রপতি, ফ্যাসিস্টের দোসর তার অভিশংসনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। নতুন সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে এই কাজটি করবে। কারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় ঐক্য রয়েছে। সেই জায়গা থেকে এখানে কোন বিভেদ থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমতে আসতে পারেনি বলেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হয়নি। তা না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি জনগণের পক্ষ থেকে ছিল। সেই সময় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক শূণ্যতা এসব বলে রাষ্ট্রপতিকে রেখে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন সরকার এসেছে, নতুন সংসদ তৈরি হয়েছে- ফলে আমরা মনে করি এই রাষ্ট্রপতির চলে যাওয়াটা এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার। আমরা সেই সময়ের অপেক্ষায় আছি।’
নাহিদ বলেন, ‘চব্বিশের জুলাইয়ে যে গণহত্যা হয়েছিল তা ঠেকাতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তিনি কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি নিরব-নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমরা কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বঙ্গভবন পর্যন্ত গিয়েছিলাম। কিন্তু তার নিরব ভূমিকা, নিষ্ক্রিয়তার কারণে এই গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে। ফলে এই গণহত্যার দায়ে তিনিও অভিযুক্ত।’
এর আগে এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে শপথ ভঙ্গের অভিযোগ আনেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালার সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং রাষ্ট্রের গোপন বিষয়ের মতো আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি তার এই সাক্ষাৎকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’








আপনার মতামত লিখুন
Array