ঢাবিতে নারী নির্যাতন সিসিটিভিতে ধরা পড়ল নির্মম চিত্র
মানুষ এত নির্মম হয়। তাও আবার অভিযুক্তরা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
স্টার নিউজের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুদিন আগে মধ্যরাতে টিএসসি মোড়ে দুই তরুণী ও এক তরুণকে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।
সিসিটিভি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার ভোর রাত ৪টা ৫৩ মিনিট। টিএসসির রাস্তায় বাইক থামিয়ে নামেন এক তরুণ ও তরুণী। সেখানে আগে থেকে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার-পাঁচ জন শিক্ষার্থী। মিনিট তিনেক পর বাইক চালক যুবকের দিকে এগিয়ে আসেন এক শিক্ষার্থী। কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটির পর শুরু হয় মারধর ও নির্যাতন।
ওই সময় আরেকটি বাইকে ঘটনাস্থলে আসেন ভুক্তভোগীর পরিচিত আরও দুইজন তরুণী ও এক যুবক। তাদেরও মারধর করেন অভিযুক্তরা। হেলমেট দিয়ে দফায় দফায় দুই তরুণীর মাথায় আঘাত করতে থাকেন তারা। বাধা দিতে গেলে প্রথম বাইকের ছেলেটির ওপর আরেক দফা চলে নির্যাতন। ফ্লাইং কিক, কিলঘুষি, লাঠি ও হেলমেট দিয়ে ২৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে মারধর করা হয় ভুক্তভোগীদের।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী এক যুবক ট্রিপল নাইনে (৯৯৯) কল দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মারামারিতে হস্তক্ষেপ করে না তারা। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘এই তুই এইখানে জানস না এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়? আমারে মারার কারণ আমি নিজেও জানি না। আপনারে (সাংবাদিক) কি বলবো?
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুজনকে শনাক্ত করেছে প্রক্টোরিয়াল টিম। তারা হলেন- ২৩-২৪ সেশনের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের আহমেদ রাকিব এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শাহরিয়ার তুষার। ঘটনার পর থেকেই পলাতক তারা, মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে।
যেখানে জ্ঞানের চর্চা হওয়ার কথা, গড়ে ওঠার কথা মানবিক মূল্যবোধ, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। শিক্ষাঙ্গনে এমন ঘটনা তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন তোলে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘নারীদেরকে আক্রমণ করা হয়েছে আন্ডার ক্যামেরা, সো এটা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সো আমরা এটা খুব নির্মোহভাবে, নিরপেক্ষভাবে দেখব। যারাই দায়ী থাকবেন আমরা ব্যবস্থা নেব ইনশাআল্লাহ।’








আপনার মতামত লিখুন
Array