সৌদিতে মিসাইল হামলায় সখীপুরের যুবক নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
সৌদিতে মিসাইল হামলায় সখীপুরের যুবক নিহত

ভাগ্যান্বেষণে সুদূর প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন মোশারফ হোসেন (৪০)। স্বপ্ন ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু বিদেশের মাটিতে ঘাতক মিসাইল কেড়ে নিল সেই স্বপ্ন। গত রোববার (৮ মার্চ) ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার এই যুবক।

নিহত মোশারফ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্তনখোলা গ্রামের সুরজত আলীর ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রনী নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র পরিবারের হাল ধরতে মোশারফ প্রায় ৮ বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সর্বশেষ তিন বছর আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। সংসার জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে মিহান প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। রোববার ইফতারের আগে মিসাইল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও সোমবার সেহরির সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি-পরিচয়সহ মোশারফের মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্ত্রী কবরী আক্তার জানান, রোববার সকালে কথা হয়েছিল স্বামীর সঙ্গে। বলেছিলেন ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন, ছেলে দুটির জন্য কিছু কিনতে। কিন্তু কে জানতো সেই কথাই হবে শেষ কথা!

রোববার রাত ৩টার দিকে মোশারফের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। ছোট ছেলে মিহান নানার কোলে বসে অবাক দৃষ্টিতে চারপাশের মানুষের কান্না দেখছে। হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি- তার বাবা আর কোনোদিন ফিরবেন না।

নিহত মোশারফের প্রতিবেশী চাচাত ভাই সৌদি আরব প্রবাসী এম. জাকির হোসেন বলেন, মোশারফের ক্যাম্পে ইফতারের প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় হঠাৎ একটি বিস্ফোরণে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। যে এলাকায় মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে বলে শুনেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন, কিন্তু দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেলো। আমরা খবর পেয়ে সকালেই ছুটে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।