অনেকেই আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকে : সংসদে ফজলুর
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বিরোধী দলের অনেক সদস্য তাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে সম্বোধন করেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোনো সদস্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হতে পারেন না। তিনি এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমিরের দিকে ইঙ্গিত করে এমন মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্যের পর সংসদে বিরোধী সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হয়। পরে স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হট্টগোলের মধ্যেও তিনি তার অবস্থানে অনড় থেকে পুনরায় বলেন, যদি কোনো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য জামায়াতে যুক্ত হন, তবে তা দ্বিগুণ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্বল্পমেয়াদি কোনো গণআন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হলে তা মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদাকে খাটো করে। এ প্রসঙ্গে তিনি আবেগ প্রকাশ করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কখনও কখনও তার মনে হয় মৃত্যুই হয়তো ভালো ছিল।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এবং পরবর্তী সময়ে জামায়াতের আমির নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু সৌন্দর্যের দেশ নয়, সংগ্রাম ও ত্যাগেরও প্রতীক। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এ দেশের প্রকৃতিতে যেমন কোমলতা রয়েছে, তেমনি শক্তি ও সাহসিকতার প্রতীকও বিদ্যমান। যতদিন এ দেশের সেই শক্তি বজায় থাকবে, ততদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিজয়ী হবে এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কখনও সফল হতে পারবে না।
বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, তার বক্তব্যের পর অনেকেই নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করতে পারেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যারা তাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে, তারাই নিজেদের সভ্য বলে দাবি করেন।
তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি একদিকে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে দাবি করেন এবং অন্যদিকে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তা গুরুতর বিরোধপূর্ণ এবং অপরাধমূলক অবস্থান।
ফজলুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর একসময় দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি দাবি করেন, তখন কিছু গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্বই অস্বীকার করার চেষ্টা করেছিল। এ সময় তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাস্তব এবং এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এ সত্য অস্বীকারের সুযোগ নেই।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে তার বাসার সামনে হামলার আশঙ্কায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত উপস্থিতির কারণে তিনি রক্ষা পান।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নানা ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিরোধী দলের ভূমিকাও তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অতীতে তিনি বলেছিলেন যদি জামায়াত জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে তিনি কঠিন সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তার মতে, ইতিহাস প্রমাণ করে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কখনও চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারেনি।







আপনার মতামত লিখুন
Array