গ্যাসের বিদ্যুৎ অটোরিকশায়
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার পর এখন এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। গতকাল শনিবার যদিও সামিট এবং এক্সিলারেটর দুই টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যুক্ত হচ্ছে; কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। এর মধ্যে আবার বেশির ভাগ গ্যাস চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেই। আর এই বিদ্যুতের একটা বড় অংশ ব্যবহার হচ্ছে রাজপথে রাজত্ব করা অনিবন্ধিত ‘টেসলা’ বলে খ্যাত অটোরিকশাগুলো। এখন এটি শুধু যাত্রী পরিবহনের বাহন হিসেবে নয়, বিশাল বৈদ্যুতিক ভোক্তা হিসেবেও বড় জায়গা দখল করে আছে। এতে করে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনের বড় একটা অংশ অবৈধভাবে খাচ্ছে এসব অটোরিকশা। শহর, উপশহর, জেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ‘ইজিবাইক’ ঠিক কতটুকু বিদ্যুৎ কনজ্যুম করছে তার হিসাব নেই কারো কাছেই। দিনে যাত্রী বহন, রাতে চার্জ- এই চক্র লাখ লাখ যানবাহন জাতীয় বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
যার তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আবাসিক, পরিবহন ও শিল্প খাতে। বর্তমান সংকটে যেখানে গাড়ির মালিকরা পাম্পে পাম্পে ঘুরে গ্যাস পাচ্ছেন না, সেখানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চুরি করে রাজপথে রাজত্ব চালাচ্ছে তথাকথিত এসব টেসলা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সরাসরি গ্যাস না পোড়ালেও সেটি যখন জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করে, তখন সেই বিদ্যুতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের পেছনে থাকে গ্যাস। ফলে অটোরিকশার চার্জিংয়ের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি ব্যয় হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সব খাতের ভোক্তাদেরই।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সর্বশেষ তথ্য মতে, শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় দেশীয় উৎস থেকে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়। আর সামিট ও এক্সিলারেটরের টার্মিনাল থেকে মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয় ৮১০ এমএমসিএফডি গ্যাস। সব মিলিয়ে এদিন জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস যুক্ত হয় ২ হাজার ৪২৫ এমএমসিএফডি গ্যাস। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেই সরবরাহ করা হয় ৯৩১ এমএমসিএফডি গ্যাস। সারে ১৫৩ আর বাকিটা অন্যান্য খাতে সরবরাহ করা হয়। আর বিদ্যুতের বড় অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে অটোরিকশা চার্জে।
ফলে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংসহ গ্যাস সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। তাই নীতিমালাবিহীন অটোরিকশাগুলোকে একটি নীতিমালার মধ্যে নিয়ে তাদের কতটুকু বিদ্যুৎ দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করে না দেওয়া পর্যন্ত সংকট কাটবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় জ্বালানি এখনো প্রাকৃতিক গ্যাস। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে জাতীয়ভাবে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৪৪.০৯ শতাংশ এসেছে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে। একই সময়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর স্থাপিত সক্ষমতাও ছিল মোট জাতীয় সক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশের বেশি।
গ্যাসের সঙ্গে অটোরিকশার পরোক্ষ সম্পর্ক থাকায় জ্বালানিব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশ যখন গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গ্যাসের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না, শিল্প-কারখানায় গ্যাসের চাপ কমছে এবং সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানাচ্ছে, তখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে চলা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিং চাহিদা কীভাবে সামাল দেওয়া হচ্ছে?
আরও বড় প্রশ্ন হলো- এই যানবাহনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত পরিমাণ কত, এর কতটা বৈধভাবে মিটারযুক্ত, কতটা আবাসিক লাইনে, কতটা অবৈধ সংযোগে এবং এই খাতের বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য শেষ পর্যন্ত জাতীয় অর্থনীতিকে কী মূল্য দিতে হচ্ছে? সাম্প্রতিক বাস্তবতা বলছে, প্রশ্নগুলো আর তাত্ত্বিক নয়। আগস্টে গ্যাস সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সময়ে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত এবং লোডশেডিং বেড়েছে। অন্যদিকে সম্প্রতি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। তখন মোট সরবরাহ প্রায় ২,১৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে, যেখানে চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প, আবাসিক গ্রাহক এবং সিএনজি স্টেশনসহ সব খাতেই। অর্থাৎ বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় এখন প্রতি ইউনিট গ্যাস এবং প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। সেই হিসাবের বাইরে পড়ে আছে বিশাল এক ‘অনানুষ্ঠানিক’ পরিবহন খাত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
অটোরিকশা কত বিদ্যুৎ খায়
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঠিক হিসাব নেই। এটাই এই খাতের সবচেয়ে বড় তথ্য-ঘাটতি। বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের একটি গবেষণা উদ্যোগে অটোরিকশাকে এমন একটি পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা প্রায় দুই দশক ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সাধারণত মূল বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে ব্যাটারি চার্জ করা হয়। সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সারা দেশে অটোরিকশার সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ লাখ হতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, এসব অটোরিকশার ৯০ শতাংশই এখন দেশে তৈরি হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারো কারো মতে, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ। তবে এই সংখ্যার সরকারি নিবন্ধনভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ যাচাই নেই।
এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ে যেসব সংখ্যা প্রচলিত, সেগুলোকে একক সরকারি সংখ্যা হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। কারণ অনেক যানবাহন স্থানীয়ভাবে তৈরি, অনেকগুলোর আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন নেই, অনেকগুলো একাধিক এলাকায় চলাচল করে এবং একটি অংশ স্থানীয় সরকার বা পৌরসভার অনুমতিতে চললেও জাতীয় পর্যায়ের পরিবহন নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বাইরে থেকে যায়। বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলও জানিয়েছে, এসব যানবাহন মূলত বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করে চলে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে চলাচলের অনুমতি দিলেও জাতীয় পর্যায়ে অনুমোদনের কাঠামো অস্পষ্ট। তিনি বলেন, একটি অটোরিকশা কত বিদ্যুৎ খায়- প্রশ্নটি শুনতে ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু লাখ লাখ যানবাহনের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। উৎপাদিত বিদ্যুতের একটা বড় অংশই চলে যাচ্ছে অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে।
রাতের চার্জিং বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অদৃশ্য চাপ
অটোরিকশার দিনের বড় অংশ রাস্তায় থাকে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চার্জিং হয় সন্ধ্যার পর বা রাতে। এটি একদিকে সুবিধাজনক দিনের পিক লোড এড়ানো যেতে পারে। কিন্তু অন্যদিকে নির্দিষ্ট এলাকায় শত শত গাড়ি একই সময়ে চার্জ হলে স্থানীয় ট্রান্সফরমার ও বিতরণ লাইনে বড় ধরনের ক্লাস্টার লোড তৈরি হয়। একটি গবেষণায় ইজিবাইকের রাতের চার্জিং এবং আবাসিক বিদ্যুৎ লাইনের ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন আসে চার্জিং হচ্ছে কোথায়?
রাজধানীর তেজাগাঁওয়ের এক বাসিন্দা বলেন, এখানে সন্ধ্যার পর হাজার হাজার রিকশা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। তারা একটি স্থানীয় গ্যারেজ থেকে চার্জ দেয়। এই চার্জিংয়ের বিল কোথায় যায় আজ পর্যন্ত কেউ জানে না। একই অভিযোগ করেন রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, বাসার সামনে থেকেই রিকশাগুলো সন্ধ্যার পর থেকে লাইনে দাঁড়ায়। একটি গ্যারেজে একে একে চার্জ নেয়। এই চার্জিং স্টেশন সরকার অনুমোদিত কি না একদিন জানতে চেয়েছিলাম। সেখানে বসে থাকা একজন আমাকে মারতে তেড়ে আসে।
অটোরিকশার আরেক অদৃশ্য ‘চুরি’
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি হলো বিদ্যুৎ চুরি বা অবৈধ ব্যবহার। ২০২৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশিত সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানবাহনের কারণে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এই তথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সমস্যাটিকে শুধু ‘বিদ্যুৎ চুরি’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না উল্লেখ করে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এসব অটোরিকশার কারণে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো রাজস্ব হারায়, বৈধ গ্রাহককে অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে হয়, স্থানীয় ট্রান্সফরমার অতিরিক্ত লোডে পড়ে, নিম্নমানের তার ও চার্জার ব্যবহারে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ে, ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়, গ্রিডের কারিগরি ক্ষতি বাড়তে পারে এবং রাষ্ট্রের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চাহিদা বিকৃত হয়ে যায়। ফলে অটোরিকশার বিদ্যুৎ ব্যবহার যদি জাতীয় বিদ্যুৎ পরিকল্পনায় সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তাহলে বিদ্যুৎ চাহিদার পূর্বাভাসও ভুল হতে পারে।
গ্যাসের সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত
প্রশ্ন আসে অটোরিকশা যদি বিদ্যুৎ খায় তাহলে গ্যাসের সংকট হবে কেন? এর উত্তর হলো, বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ গ্যাস থেকে আসে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বিতরণ লাইনের মাধ্যমে অটোরিকশার ব্যাটারিগুলো চার্জ হয়। এটিই হলো গ্যাস সংকটের সঙ্গে অটোরিকশার সম্পৃক্ততা উল্লেখ করে অধ্যাপক সামসুল আলম বলেন, চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর স্থাপিত সক্ষমতার মধ্যে গ্যাসভিত্তিক সক্ষমতা ছিল ১২ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াট বা ৪৪.৩২ শতাংশ। ডিরেটেড সক্ষমতায় গ্যাসের অংশ ছিল ১১,৪২৮ মেগাওয়াট বা ৪৩.৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার একটি বড় অংশ এখনো গ্যাসনির্ভর। ফলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিদ্যুৎ চাহিদা যত বাড়বে, সেই অতিরিক্ত বিদ্যুতের একটি অংশ পূরণ করতে গ্যাসভিত্তিক উৎপাদনও বাড়াতে হবে যদি অন্য জ্বালানি বা আমদানি দিয়ে তা প্রতিস্থাপন না করা হয়। তাই এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে একটা জরুরি ভিত্তিতে অটোরিকশানীতিমালাসহ এসব যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। নইলে জ্বালানির সব খাতেই বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকবে। ইজিবাইককে ‘পরিবেশবান্ধব’ বলার আগে বিদ্যুতের উৎস, চার্জিং দক্ষতা, ব্যাটারির জীবনচক্র এবং ব্যবহৃত বিদ্যুতের উৎস বিবেচনা করতে হবে। নইলে সব ক্ষেত্রেই দুর্ভোগ পোহাতে হবেই। অটোরিকশা যদি রাতের কম-চাহিদার সময়ে চার্জ নেয়, তাহলে একই উৎপাদন সক্ষমতা থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন ‘স্মার্ট চার্জিং’ পদ্ধতি। তবে সমাধান অটোরিকশা বন্ধ করা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সমাধান হলো অটোরিকশাকে হিসাবের মধ্যে আনা। কত গাড়ি আছে, কত বিদ্যুৎ খায়, কোথায় চার্জ হয়, কতটা বিদ্যুৎ বৈধভাবে ব্যবহার করে, কতটা চুরি হয়, কখন চার্জ নেয়, কী ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করে এবং সেই বিদ্যুতের কতটা গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন থেকে আসে সবকিছুর হিসাব করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই খাতকে ‘শত্রু’ না বানিয়ে ‘পরিকল্পিত বিদ্যুৎভোক্তা’ হিসেবে রূপান্তর করা। কারণ একই অটোরিকশা দুইভাবে বাংলাদেশের জন্য বোঝা হতে পারে। একদিকে অদক্ষ চার্জার, অবৈধ সংযোগ, পুরোনো ব্যাটারি, রাতের ক্লাস্টার লোড ও গ্যাসভিত্তিক ব্যয়বহুল বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা। অন্যদিকে স্মার্ট মিটার, অফ-পিক চার্জিং, সৌরবিদ্যুৎ, মানসম্মত ব্যাটারি, বৈধ চার্জিং স্টেশন এবং পরিকল্পিত গ্রিড ব্যবস্থাপনা। দুটির মধ্যে পার্থক্যটি প্রযুক্তির চেয়ে বেশি নীতির।
বিগত সরকারের নেওয়া অপরিকল্পিত নীতির খেসারত দিচ্ছে বিএনপি
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া অপরিকল্পিত নীতির খেসার বর্তমান সরকারকে দিতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, পলাতক আওয়ামী লীগ সরকার শতভাগ বিদ্যুতায়নের নামে যেসব অরাজকতা খাতটিতে করে গেছে, তারই খেসারত এখন আমাদের দিতে হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে অটোরিকশা একটি। তারা ক্ষমতায় থাকতে বলেছিল, দেশের সব যানবাহনই বৈদ্যুতিক হয়ে যাবে। যেখানে শত শত বিদ্যুৎকেন্দ্রকে উৎপাদন না করিয়ে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়েছে। আমাদের সরকার খুব শিগগির অটোরিকশার চার্জিংয়ের একটি নীতিমালাসহ সব রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসার কাজ করছে। সংকট দ্রুত সমাধানে যা যা করণীয় সবই করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।







আপনার মতামত লিখুন
Array