রংপুরে হত্যা মামলার আসামি টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার
রংপুর মহানগরীর হারাগাছে জমির বিরোধে আলোচিত পলাশ হত্যা মামলায় মো. সাব্বির (২৭) নামের একজন আসামিকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বুধবার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মো. সাব্বির হারাগাছ থানার আরাজী বীরচরণ গ্রামের মো. মোজাহার আলীর ছেলে এবং মামলার ২নং এজাহারনামীয় আসামি। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য জানান এসআরবি-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
এসআরবি জানায়, নিহত পলাশের পক্ষের অংশীদারি সম্পত্তির এক শতাংশ জমি তাঁর চাচা জাফরের কাছ থেকে গোপনে ক্রয়ের চেষ্টা করেন একই এলাকার মোজাহার আলী। চলকি বছরের ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় সাহেবগঞ্জ বাজারে মোজাহারের কাছে জমি ক্রয়ের বিষয়ে জানতে চান পলাশ। এতে ক্ষিপ্ত হন মোজাহার। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। খবর পেয়ে চাচা জাফর সেখানে গিয়ে পলাশকে চড়-থাপ্পড় দেন। এরই মধ্যে মোজাহার বাগ্বিত-ার বিষয়টি তার দুই ছেলে সাব্বির, সজিবসহ আত্মীয়দের জানান। পরে রাতে পলাশ ও তার মা সাহেবগঞ্জ মাছের বাজারে এক ব্যক্তির কাছে টাকার জন্য যান। সেখানে মোজাহারের আত্মীয় সোনা মিয়া প্রথমে পলাশকে মারধর করেন। আত্মরক্ষায় পলাশ সেখান থেকে দৌড়ে তিনমাথা মোড় বাজারে যান। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা মোজাহার ও তার ছেলেরাসহ কয়েকজন যুবক লোহার রড, এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পলাশকে মারধর করে। তার চিৎকারে ছেলেকে বাঁচাতে পলাশের মা ও মেজ ভাই আশরাফুল এগিয়ে গেলে তাঁদেরও মারধর করে মোজাহারের লোকজন। পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহতাবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে হারাগাছ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ আগস্ট পলাশের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে একই দিনে হারাগাছ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এসআরবি-১৩, রংপুর এবং সিপিসি-৩, এসআরবি-১৪, টাঙ্গাইল ক্যাম্প এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ৩০ সেপ্টেম্বর, বিকেলে টাঙ্গাঈল জেলার মির্জাপুর উপজেলা গড়াই মুক্তা প্লাজা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।







আপনার মতামত লিখুন
Array