৪৫ বছরেও বাড়েনি পরিসর, টাঙ্গাইল বাস টার্মিনালে চরম জনদুর্ভোগ

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
৪৫ বছরেও বাড়েনি পরিসর, টাঙ্গাইল বাস টার্মিনালে চরম জনদুর্ভোগ

১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ৬ একর জমির ওপর টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনাল উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এই টার্মিনালের অবকাঠামোগত কোনো সম্প্রসারণ বা উন্নয়ন হয়নি। সময়ের সাথে শহর বেড়েছে, যানবাহনের সংখ্যা ও রুট বেড়েছে, কিন্তু টার্মিনালের আয়তন আগের মতোই রয়ে গেছে। ফলে নিত্যদিনের তীব্র যানজট ও লক্কর-ঝক্কর বাসের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সারি সারি ফিটনেসবিহীন ও চলাচলের অনুপযোগী বাস দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রুটে চলাচলকারী ‘প্রান্তিক’ পরিবহনের বেশিরভাগ গাড়ির অবস্থা শোচনীয় এবং সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

জরাজীর্ণ এসব বাসের চালক রুবেল ও আলমাস বলেন, “মালিকরা যে গাড়ি দেন, আমরা সেটাই চালাই। ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ির জন্য মালিকপক্ষই মূলত দায়ী।” তবে অধিকাংশ গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী বলে তাঁরা স্বীকার করেন।

ঢাকা রুটের ‘নিরালা’ ও ‘ধলেশ্বরী’ পরিবহনের নিয়মিত যাত্রীরা জানান, বাসের আসনগুলো ভাঙাচোরা এবং ছারপোকায় ভরা। সময়মতো গাড়ি ছাড়লেও সিটিং সার্ভিসের নামে পথে পথে যাত্রী তোলা হয়, যা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন রুট থেকে ফিটনেসবিহীন বাস অপসারণ ও যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। যাত্রীদের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরকারি জায়গায় উচ্ছেদের পর নিরালা পরিবহনের কাউন্টারের জন্য নতুন জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যানজটের বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, শহরে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত সিএনজি, অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে অটোরিকশা দুই শিফটে চালু করার পরিকল্পনা চলছে। শহরের ভেতরের চাপ কমলে টার্মিনাল এলাকার যানজটও অনেকটা কমে আসবে।

১৯৮১ সালের ৬ একরের সেই টার্মিনালেই আটকে আছে টাঙ্গাইলের গণপরিবহন ব্যবস্থা। আধুনিকায়নের ছোঁয়াহীন এই টার্মিনালের পরিধি দ্রুত সম্প্রসারণ এবং সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।