ভারতে বন্ধু চাইলে তিস্তাসহ সব নদীর ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে
ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে গঙ্গা ও তিস্তাসহ অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, শুধু পুরোনো গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন করলেই চলবে না; বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বুয়েটের প্রয়াত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে ‘আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ধরনের বৈরিতা বা শত্রুতা প্রত্যাশিত নয়। তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে কি না, সেটিই মুখ্য বিষয়। দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন অনেক নদী রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী গত ৫০ বছরেও বাংলাদেশ এসব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পায়নি।
ফারাক্কা ব্যারেজের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে গঙ্গার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। বাংলাদেশের মানুষকে শোষণের একটি হাতিয়ার হিসেবে এই ব্যারেজ ব্যবহার করা হচ্ছে।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আগামী ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আবরার ফাহাদ যে জাতীয় স্বার্থের কথা তুলে ধরেছিলেন, তা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় এখন এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায় এবং প্রতিবেশীর মর্যাদা দিতে চায় বলে যে বার্তা দিচ্ছে, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শুধু পুরোনো চুক্তির মেয়াদ বাড়ালে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবরার ফাহাদকে জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার পক্ষে আবরার সোচ্চার ছিলেন। আমরা যে কারও দাস নই, তা তিনি স্পষ্ট করে দেখিয়ে গেছেন।
আওয়ামী লীগের বিগত শাসনের কথা টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ভারতের এক্সটেনশন হিসেবে কাজ করেছে এবং তাদের সমর্থনেই ক্ষমতায় টিকে ছিল। আবরার ফাহাদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে লেখেননি, তিনি লিখেছেন ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে; আর সে কারণেই তাঁকে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে।
এ সময় আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ও বিচার দীর্ঘদিনেও কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম।
আলোচনা সভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত এবং আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।







আপনার মতামত লিখুন
Array