অবহেলার শিকার সাগরদিঘী, বিনোদন বঞ্চিত স্থানীয়রা
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাগরদিঘী বিনোদন কেন্দ্র এখন মাদকসেবিদের অভয়ারণ্য। স্থানীয় বিনোদন প্রেমীদের একমাত্র বিনোদনের উৎস ছিল এটি।
কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সাগরদিঘী বিনোদন কেন্দ্রটি এখন মাদক আর কিশুর গ্যাংয়ের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাগরদিঘীর পার ঘেঁষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় নির্মিত পুরনো ডাকবাংলোকে কেন্দ্র করে বাংলোটিকে দৃষ্টিনন্দন করে সাগরদিঘী বিনোদন কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর স্থানীয়দের মধ্যে এটি বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সুস্থ বিনোদনের জন্য কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয় ও বিশিষ্টজনদের ধারণা ছিল। এটি উদ্বোধনের পর দর্শানার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। দর্শানার্থী সমাগমও হয় অনেক।
সম্প্রতি বিনোদন কেন্দ্রটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হওয়ায় দর্শনার্থীরা এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে মাদকসেবীরা বিনোদন কেন্দ্রের দিঘী কেন্দ্রিক রেস্ট হাউসটির প্রধান ফটকের স্টিলের নেইমপ্লেট, তালা ও ব্যানার নষ্ট করে ফেলেছে। পার্ক এবং ডাকবাংলোর নির্দিষ্ট স্থানে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও অপরাধীদের খুঁজে বের করার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে মাদকসেবী ও অপরাধীরা নির্ভয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
Google News গুগল নিউজে প্রতিদিনের বাংলাদেশ”র খবর পড়তে ফলো করুন
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিনোদন কেন্দ্রটিতে তেমন কোনো দর্শনার্থী নেই। কেন্দ্রের একপাশে আড্ডা দিচ্ছে স্থানীয় একদল কিশোর। ডাকবাংলোর পাশে পড়ে আছে পুরনো দিনের এলজিইডির রাস্তার কাজে ব্যাবহৃত একাধিক রোলার, মালবাহী জাহাজের কনটেইনার এবং জেনারেটরের মতো ভারি যন্ত্রাংশ। দূর থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা পুরনো এই স্মৃতিবিজড়িত যন্ত্রাংশের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। স্মৃতির স্মারক হিসাবে কেউ আবার ঘুরে ঘুরে দেখছেন এলজিইডির এসব যন্ত্রাংশ আর পুরনো লাল দালান। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে আসা শিশুরাও নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।
পার্কে ঘুরতে আসা এক কৃষি কর্মকর্তা বলেন, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে মেয়েকে এই বিনোদন কেন্দ্রে দেখাতে এসেছিলাম। কিন্তু সুস্থ বিনোদনের পরিবর্তে অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এখানে বখাটে ও মাদকসেবীদের জন্য পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কোনো পরিবেশ নেই।
সাগরদিঘী কলেজের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, পূর্ব ঘাটাইলের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান সাগরদিঘী। সাগরদিঘী বিনোদন কেন্দ্রটি এই এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে হলে সুস্থ বিনোদনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসনের উচিত পার্কটির প্রতি সুনজর দিয়ে কিশোর গ্যাং এবং মাদকমুক্ত একটি নির্মল পরিবেশের সৃষ্টি করা।
সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, বিনোদন পার্কে মাদক সেবন করার কোনো সুযোগ নেই। তবে স্থানীয় মাদকসেবীরা রেস্ট হাউস এরিয়ার মধ্যে কীভাবে ঢোকে তা তদন্ত করে দেখবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
ঘাটাইল উপজেলা ইউএনও বলেন, আমি ইতোমধ্যে সাগরদিঘী বিনোদন কেন্দ্রের নানা সমস্যার কথা শুনেছি। দ্রত সময়ের মধ্যে আমি পার্কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।






আপনার মতামত লিখুন
Array