জীবনবাজি রেখে চলন্ত স্কুলবাসে লাফিয়ে উঠে ২০ শিশুকে বাঁচালেন মুসলিম যুবক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
জীবনবাজি রেখে চলন্ত স্কুলবাসে লাফিয়ে উঠে ২০ শিশুকে বাঁচালেন মুসলিম যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় একটি স্কুলবাসের চালক অসুস্থ হয়ে পড়লে বাসে থাকা প্রায় ২০ শিশুকে রক্ষা করেন ২৭ বছর বয়সী ইব্রো আহমেদ নামের এক মুসলিম যুবক। এ ঘটনার পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমটিকে আহমেদ বলেন, ‘আমি সত্যিই মনে করেছি, এটা আমার দায়িত্ব। তাছাড়া, এখানে শিশুদের জীবনের প্রশ্ন জড়িত। যদি আমার নিজের প্রাণও চলে যেত, তবুও এই কাজ সার্থক হতো।’ সোমবার ‘ইয়া ব্রিকস স্ন্যাকস অ্যান্ড টোব্যাকো’ নামের একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে। দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আহমেদ লক্ষ্য করেন, একটি স্কুল বাস খোলা দরজা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাসের ভেতরে তাকিয়ে আহমেদ দেখেন, চালকের এমন অবস্থা হয়েছে, যা দেখে তার খিঁচুনি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল। এরপর তিনি দ্রুত বাসটির দিকে দৌড়ে যান, ভেতরে লাফিয়ে ওঠেন এবং বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার কয়েক সেকেন্ড আগেই জরুরি ব্রেক (ইমার্জেন্সি ব্রেক) টেনে বাসটি থামিয়ে দেন।

সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে আহমেদ বলেন, ‘কিছু শিশু চিৎকার করছিল, কেউ কেউ আবার শান্ত ছিল। সামনের দিকে থাকা ওই দুই মেয়ে আমাকে সত্যিই অনেক সাহায্য করেছিল। আমি তাদের একজনের দিকে আমার ফোন ও চশমা ছুড়ে দিয়ে তাকে সেগুলো ধরে রাখতে বলেছিলাম।’

এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও শান্ত থাকতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত টেলিভিশন নাটক ‘গ্রেজ অ্যানাটমি’ তাকে সাহায্য করেছে বলে জানান আহমেদ। তিনি বলেন, ‘যেসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে আপনি কখনো ভাবেননি, সেসব ক্ষেত্রে কী করতে হবে, তা এই অনুষ্ঠান শেখায়। এটি এমন কিছু পরামর্শ ও কৌশল, যা আপনি সারা জীবন কাজে লাগাতে পারেন।’

সেন্ট পল পাবলিক স্কুলস এবিসি নিউজকে নিশ্চিত করেছে, বাসে চালকের হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। প্যারামেডিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান; তবে কেউ আহত হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট বাসের শিক্ষার্থীদের অন্য একটি বাসে স্থানান্তর করার পর বাড়ি পাঠানো হয়।

ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন কাউন্সেলররা। সেন্ট পল পাবলিক স্কুলসের এক মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্কুলবাসের চালককে পরে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন।