রোববার থেকে পুরোদমে উৎপাদনে ফিরছে পোশাকশিল্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
রোববার থেকে পুরোদমে উৎপাদনে ফিরছে পোশাকশিল্প

টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ ও উৎপাদন ব্যাঘাত কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। আগামীকাল রোববার (৮ নভেম্বর) থেকে অধিকাংশ কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছেন মালিকেরা। ওই দিন শ্রমিকদের অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধের কথা রয়েছে। এতে শ্রমিকদের অসন্তোষ আরও কমবে বলে আশা করছেন তারা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সাভার ও আশুলিয়ার ৮৮টি পোশাক কারখানা চালু ছিল। এসব কারখানায় শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেন। কমেছে সড়কে বিক্ষোভ ও উত্তেজনাও।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ জানায়, বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের প্রায় ১৩০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর মধ্যে সাভার ও আশুলিয়ায় ৭০টি, গাজীপুরে ৫০টি এবং নারায়ণগঞ্জে আটটি কারখানা রয়েছে।

শিল্পমালিকদের আশা, শনিবার সরকারি ছুটির পর রোববার থেকে কারখানাগুলোতে উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। কয়েক দিনের অস্থিরতায় উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সর্বোচ্চ উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দুই সপ্তাহ ধরে চলা শ্রমিক অসন্তোষের অন্যতম কারণ ছিল মজুরি বৃদ্ধি। শ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। গত বুধবার নতুন মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার কথা শ্রমিকদের।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন হওয়ায় শ্রমিকদের দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় প্রয়োজন। মালিকদের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে রফতানি আদেশ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।