নিরাপদ বাসস্থান পেলেন মির্জাপুরের রূপসী বেগম
জরাজীর্ণ, অরক্ষিত ঘরে বছরের পর বছর বসবাস করতেন রূপসী বেগম। শীতে ঠান্ডা বাতাস, বর্ষায় ছাদ দিয়ে পানি পড়া, আর খোলা জায়গায় কষ্ট করে রান্না করা—এই ছিল তাঁর প্রতিদিনের বাস্তবতা। আর্ন এন্ড লিভের সহযোগিতায় সেই কষ্ট থেকে মুক্তি পেলেন রূপসী বেগম। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাঁকে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে নতুন টিনের দুটি ঘর। রূপসী বেগমের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাওয়ার কুমারজানী। স্বামীহারা রূপসী বেগম প্রতিবন্ধী ছেলের মা হিসেবে জীবনের প্রতিটি দিন ছিল তাঁর জন্য সংগ্রামের।
রূপসী বেগমের এই মানবিক অবস্থা জানার পর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আর্ন এন্ড লিভ তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সংগঠনের উদ্যোগে এবং দাতাদের সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয় একটি নতুন সুরক্ষিত ঘর ও পৃথক রান্নাঘর।
শনিবার (৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে রূপসী বেগমের কাছে নতুন ঘর হস্তান্তর করা হয়।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত রূপসী বেগম বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি আমার মাথার উপর এমন সুন্দর একটি নিরাপদ ঘর হবে। বৃষ্টি-ঝড়ের ভয় ছিল প্রতিদিনের সঙ্গী। এখন মনে হচ্ছে যেন আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন। আর্ন এন্ড লিভ-এর ভাই-বোনদের জন্য আমি দোয়া করি আল্লাহ যেন তাদের সব ভালো কাজ কবুল করেন।”
আর্ন এন্ড লিভ-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন জেসী জানান, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তাদের জীবনে নিরাপত্তা ও সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। রূপসী বেগমের ঘর ও রান্নাঘর নির্মাণ সেই মানবিক প্রচেষ্টারই আরেকটি উদাহরণ।
নতুন ঘর পাওয়ায় এখন নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন রূপসী বেগম। পূর্বের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি পেছনে ফেলে, তাঁর জীবনে একটি নতুন সূচনা হলো বলে তিনি মনে করেন।






আপনার মতামত লিখুন
Array