ভূঞাপুরে হুইলচেয়ারে ফিরল কানাইয়ের হাসি, ভাঙল নীরব কষ্ট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
ভূঞাপুরে হুইলচেয়ারে ফিরল কানাইয়ের হাসি, ভাঙল নীরব কষ্ট

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার পলিশা গ্রামের মাঝিপাড়া এলাকা। সন্ধ্যা নামলেই চারপাশে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। নদীর ধারে জাল শুকায়, ঘরের ভেতরে জমে ওঠে ক্লান্ত দিনের দীর্ঘশ্বাস। এই মাঝিপাড়ার এক কোণে জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে উঠছে ১৫ বছর বয়সি কিশোর কানাই।

কানাইয়ের বাবা গোবিন্দ পেশায় একজন জেলে। নদীতে জাল ফেলে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলে। ছেলের চিকিৎসার খরচ তাকে ধীরে ধীরে নিঃস্ব করে দিয়েছে। হাঁটতে না পারা ছেলেটিকে বছরের পর বছর কোলে করেই চলতে হয়েছে তাকে। চলাফেরার জন্য একটি হুইলচেয়ার ছিল কানাইয়ের সবচেয়ে প্রয়োজন। কিন্তু দারিদ্র্যের দেয়ালে সেই প্রয়োজন বারবার আটকে গেছে।

গোবিন্দ মাঝি বলেন, কানাইকে কোলে নিয়ে চলাফেরা করতে করতে শরীর আর শক্তি—দুটোই ভেঙে গেছে। কিন্তু ছেলের কষ্টটাই সবচেয়ে বেশি পোড়ায়।

দিনের পর দিন কেটে গেলেও কানাইয়ের নীরব কান্না কিংবা বাবার অসহায় দৃষ্টি তেমন কারো নজরে পড়েনি। হঠাৎ সেই নীরবতার মধ্যেই আশার আলো হয়ে আসে একটি খবর। কানাইয়ের দুর্দশার কথা জানতে পারেন ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান। কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা সময়ের অজুহাত না দেখিয়ে খবর পাওয়ার পরই শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতের বেলায় ছুটে যান মাঝিপাড়ায় কানাইদের বাড়িতে।
আলো-আঁধারের সেই রাতে কানাইকে দেওয়া হয় একটি হুইলচেয়ার। পাশাপাশি দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তাও। হুইলচেয়ারে বসার মুহূর্তে কানাইয়ের চোখে ভয়ের জায়গায় স্বস্তি—দীর্ঘদিন পর যেন নিজের চলার অধিকার ফিরে পেল।

ছেলের মুখে হাসি দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বাবা গোবিন্দ। ভাঙা গলায় তিনি বলেন, আজ মনে হচ্ছে, আমার ছেলেটা আর একা না। কেউ আমাদের খোঁজ নিয়েছে।

এই ঘটনা শুধু একটি হুইলচেয়ার দেওয়ার গল্প নয়। এটি দায়িত্বশীল প্রশাসনের এক মানবিক বার্তা—মানুষের কষ্ট যদি সঠিকভাবে পৌঁছায়, রাতও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

এলাকাবাসীর মতে, এমন মানবিক উপস্থিতিই প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনে। কানাইয়ের জীবনে এই হুইলচেয়ার হয়তো সব কষ্ট দূর করবে না, তবে চলার পথে এটি হয়ে থাকবে তার প্রথম ভরসার সঙ্গী।

সংবাদটি rupalibangladesh.comওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যের সঠিকতা ও মালিকানা বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে অনুগ্রহ করে মূল সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।