ভূঞাপুরে সংযোগ সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে ভোগান্তি
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সংযোগ সেতু না থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। শাখা নদী দুই পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নদীর উপর ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ছোট্ট একটি খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছে হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে জন প্রতিনিধি ও প্রশাসন সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় হতাশ ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জুয়াদ আলি মোড়ের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে যমুনার শাখা নদী লৌহজং। লৌহজং নদীর উত্তর পাশে রামপুর, গোপীনাথপুর, রায়ের বাকলিয়া, খন্দকার পাড়া, ভুঁইয়া পাড়া, সও ৬/৭টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস। শাখা নদীটির দু’পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নদীর উপর নেই সংযোগ সেতু। যাতায়াতে একমাত্র ভরসা ছোট্ট খেয়ানৌকা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ সও হাজার হাজার মানুষ সও হয় ঝুঁকিপূর্ণ এই পারাপার। অনেক সময় পারাপারের জন্য খেয়ানৌকায় থাকতে হয়, অপেক্ষায় বসে পর ঘণ্টার। অসুস্থ রোগীদের ঘণ্টা নিয়ে পড়তে
এছাড়াও সেতুর অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে ছেলে-মেয়েদের বিবাহ দিতে পারছেন না ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। ঝুঁকি পূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার অযুহাত দেখিয়ে বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে যায় বর ও কনে পক্ষের লোকজন। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত করতে না পারায় ছিন্ন হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক।
রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মিনহাজ উদ্দীন ও বশির মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা খেয়া নৌকা দিয়ে উপজেলা শহর ও হাট বাজারে যাতায়াত করি। নৌকা দিয়ে ফসল পারাপার করতে আমাদের বেশি কষ্ট হয়। এছাড়াও আমাদের সন্তানরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করে। সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই খেয়া নৌকাটিই আমাদের একমাত্র ভরসা। এখানে একটা সেতু হলে আমাদের আর কষ্ট থাকবে না।
খন্দকার পাড়ার আব্দুর রশীদ, হানিফ আলি ও বাদশা মিয়া বলেন- যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের সাথে কেউ আত্মীয়তা করতে চায় না। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রোগীদের অবস্থা আশঙ্কা হয়ে যায়। সময় মতো আমরা হাসপাতালে যেতে পারি না। নৌকা দিয়ে পারাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন আমাদের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও মা বোনেরা। একটি সেতু আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এখানে একটি সেতু হলে আমাদের সন্তানদের শিক্ষার মান বৃদ্ধি সও, আমরা আর্থিকভাবে অনেকটাই সচ্ছলতা লাভ করবো, সেই সাথে দূর হবে যাতায়াতের দুর্ভোগ।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান জানান, সরেজমিনে আমরা জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। এখানে একটি ব্রিজটি অতীব জরুরি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এএসই







আপনার মতামত লিখুন
Array