যুবক-যুবতীর জন্য কাজ চাই, মা-বোনদের জন্য নিরাপত্তা চাই: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
যুবক-যুবতীর জন্য কাজ চাই, মা-বোনদের জন্য নিরাপত্তা চাই: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোট প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা নির্বাচন করেছেন, সুন্দর সুন্দর কথা শুনিয়েছেন। কিন্তু ওয়াদা ওয়াদার জায়গায় রয়ে গেছে, ওয়াদা তারা বাস্তবায়ন করেননি। যার কারণে সমাজে বৈষম্য দেখা দিয়েছিল, অপরাধ চরম যাত্রা ধারণ করেছিল, দুর্নীতি গোটা সমাজকে ডুবিয়ে দিয়েছিল। এর বিরুদ্ধে আমাদের যুব সমাজ ফুসে উঠেছিল। একটা মাত্র শ্লোগান উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা ন্যায় বিচার চাই। আমার বাঁচার জন্য অধিকার চাই। শিশুর জন্য শিক্ষা চাই। যুবক-যুবতীর জন্য কাজ চাই। মা-বোনদের জন্য নিরাপত্তা চাই। ব্যবসায়ীদের জন্য নিভের্জাল শান্তিতে ব্যবসা করার পরিবেশ চাই। কৃষকের জন্য জমিতে উন্নতমানের ফসল ফলানোর জন্য সরঞ্জাম চাই। শ্রমিকের জন্য ন্যায্য বিনিময় চাই। কর্ম পরিবেশ চাই। এই সবকিছু ছিল উই ওয়ান্ট জাস্টিস।

Advertisement

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বরেন। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট টাঙ্গাইল জেলা শাখা এ নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করে।

ADVERTISEMENT

ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে সবচেয়ে মজলুম। আর কোন সংগঠনের শীর্ষ ১১ জনকে শেখ হাসিনা গুম করে নাই। আর কোন সংগঠনের নিবন্ধন কেড়ে নেয় নাই। আর কোন সংগঠনের প্রতীক কেড়ে নেয় নাই। আর কোন সংগঠনের অফিসগুলো তালাবদ্ধ করে রাখে নাই। আর কোন সংগঠনের নেতাদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়া হয় নাই। আর কোন সংগঠনেকে শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় নাই। এটা একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

তিনি বলেন, শুধু বিরোধীদলীয় নেতারাই এতোদিন মজলুম ছিলেন না। এদেশের ১৮ কোটি মানুষ মজলুম ছিল। ৫ তারিখের পর যখন জামায়াতে ইসলামী মুক্ত হলো তখন তারা কোন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নাই। নির্বাচন দেয়ার দাবি করে নাই। হাজার হাজার মামলা বাণিজ্য করে মানুষকে হয়রানি করার সিদ্ধান্ত নেয় নাই। বরং আল্লাহতায়ালার শুকরিয়া আদায় করে সেজদায় পড়েছে। আমরা সে রাতেই ঘোষণা করেছিলাম, আমরা কারো বিরুদ্ধে কোন প্রতিশোধ নেবো না। এ জাতি সাক্ষী, ১৮ কোটি মানুষ সাক্ষী একটা মানুষের প্রতিও আমরা কোন প্রতিশোধ নেই নাই। আমাদের নেতা কর্মীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু হারাম পথে উপার্জনের জন্য চাঁন্দাবাজি করবো না।

আমরা বলেছিলাম, যারা আমাদের মামলা দিয়ে দফায় দফায় জেলে নিয়েছে, কষ্ট দিয়েছে, রিমান্ডে নিয়ে নিযাতন করেছে। আমাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করেছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মামলা দেবো না। আমরা বলেছিলাম, প্রতীকি কিছু মামলা হবে যাতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি না হয়। আমাদের কর্মীদের বলেছিলাম, মামলা দিয়ে একজন নিরপরাধ মানুষকে কষ্ট দেয়া যাবে না। আমরা জাতির কাছে কথা রেখেছি। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, আমাদের মোট মামলার সংখ্যাই সাতশ। এর মধ্যে আটটি মামলা আছে আসামী মাত্র একজন। দ্বিতীয়জন খুঁজে পাই নাই, দ্বিতীয়জন আসামীও দেয়া হয় নাই। ৫ তারিখের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারিবাহিনী ছিল না। আমাদের সমস্ত কর্মী নামিয়ে দেয়া হয়েছিল, জনগণের পাহাড়া দেয়ার জন্য। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ২৪ ঘন্টা আমাদের কর্মীরা সে দায়িত্ব পালন করেছে। এরপর শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, আমরা সিজনাল পলিটিশিয়ান না। আমরা বসন্তের কোকিল না। যখন নির্বাচন আসবে, নতুন রঙ ধারণ করে সুন্দর সুন্দর কথা নিয়ে আমরা হাজির হবো। না, আমরা তাই না। আপনারা সাক্ষী, সাড়ে ১৫ বছর আমাদের উপর এতো জুলুম হওয়ার পরও আমরা একদিনের জন্যও জনগণকে ছেড়ে যাইনি। এই মাটি কামড় দিয়েই আমরা ছিলাম। আল্লাহ আমাদের এখানে রেখেছিলেন। দফায় দফায় জেলে গিয়েছি, ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছি, অফিসে ঢুকতে পারি নাই। কিন্তু বাংলাদেশে ছিলাম। ভবিষ্যতে দুর্দিন, সুদিন আসবে-আল্লাহ জানেন, কথা দিচ্ছি আপনাদের ছেড়ে কোথাও যাবো নাই ইনশা আল্লাহ। আছি, থাকবো। আপনাদের সুখেও থাকবো, দুখেও থাকবো। আমরা এখন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এ স্বপ্ন আমার না, এটা জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের। তারা যে দেশটা দেখতে চেয়েছিল আমরা সেই দেশটা গড়ার শপথ নিয়েছি। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন আগামী ১২ তারিখ করে ছাড়বে এ জাতি। একটা কথা শুনতে পাচ্ছি, যারা আমাদের মতো মজলুম ছিলেন সাড়ে ১৫ বছর তারা এখন ভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন, চাঁদাবাজি করছেন, দুর্নীতি করছেন, মামলা বাণিজ্য, দখল বাণিজ্য করছেন। শুধূ তাই না, এখন নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য নির্বাচনী এজেন্টদের হুমকি দিচ্ছেন। ভুলে যান, সেদিনের কবর রচনা হয়ে গেছে। আমরা ভোট আমি দেবো, তোমারটাও আমি দেবো- এ দিন এখন আর নাই। আপনার ভোট আপনি দেবেন আমারটা আমি দেবো। আপনার পছন্দ মতো আপনিভোট দেন, ১৮ কোটি মানুষ তাদের পছন্দ মতো ভোট দেবে। এবার গায়ের শক্তি, কালো টাকা, ইঞ্জিনিয়ারিং-কিছুই মানা হবে না।

কোন যুবক বলেনি, আগামীতে বেকার ভাতা দিতে হবে। যুবকরা বেকার ভাতা চায় না। তারা কাজের অধিকারের জন্য লড়াই করেছিল। যুবকদের হাতকে শিক্ষা প্রশিক্ষণ দিয়ে ভরে দেবো ইনশা আল্লাহ। তারপর তোমাদের মজবুত হাতে কাজগুলো তুলে দেবো। তারপর বলবো, আমাদের বাংলাদেশকে তোমরা গড়ে নাও। আমরা আগামীর বাংলাদেশ তোমাদের হাতে উপহার দিতে চাই। আগামীতে নতুন সূর্য পাবো ইনশা আল্লাহ।

আমরা জাতিকে নিয়ে পেছনে যেতে চাই না। আমরা জাতিকে নিয়ে সামনে যেতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে শিশুটি উপযুক্ত শিক্ষা পাবে, উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে সুস্থ হয়ে বড় হওয়ার জন্যস্বাস্থ্যসেবা পাবে। নিরাপদ রাস্তা পাবে, নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে। এরপর যখন বড় হবে হাতে মধ্যে কাজ পাবে। যখন আরো বড় হবে দেশটাকে গড়ে তুলতে পারবে। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে আমার মা- আমার বোন নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত হবে। যে বাংলাদেশে যার যার অবস্থা হিসেবে মূল্যায়ন হবে। সবাইকে সমান দেয়ার নাম ন্যায় বিচার নয়। যার যেটা ন্যায্য পাওনা তাকে সেটাই দিতে হবে-এর নাম ন্যায়বিচার। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে আইন হবে সবার জন্য সমান। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে তার যে নির্দিষ্ট শাস্তি হবে দেশের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী একই অপরাধ করলে তাদেরকেই ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। তাদেরকেউ একই বিচারের মুখোমুখী হতে হবে। বিচারের নামে কোন দায়মুক্তি নাই। এই ন্যায়বিচার যখন কায়েম হবে তখন বাংলাদেশ রকেট গতিতে এগিয়ে যাবে।

জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় গণপরিষদের অন্যতম সদস্য তামিরুল মিল্লাতের অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী।

জনসভায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদ সভাপতিত্ব করেন। জনসভায় বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী, টাঙ্গাইল- আসনের প্রার্থী হুমায়ুন কবির, টাঙ্গাইল-৩ আসনের এনসিপির প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দার, টাঙ্গাইল-৪ আসনের খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জোহরা খাতুন জুই, বাংলাদেশ ইত্তেহাদুল ওলামা টাঙ্গাইল জেলা শাখার আমির মুফতি আব্দুর রহমান মাদানী, টাঙ্গাইল-৬ আসনের ডা. একেএম আব্দুল হামিদ, টাঙ্গাইল-৭ আসনের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন, টাঙ্গাইল-৮ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খানসহ জামায়াত ও ঐক্যজোটের অন্য শরীকদলের নেতৃবৃন্দ।