মির্জাপুরে নিখোঁজের সাত দিন পর প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিখোঁজের সাত দিন পর তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে হাত পা বাধা অবস্থায় হাফিজা আক্তার (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
হাফিজা উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের বরটিয়া গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে। তিনি দেওহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
হাফিজা গার্মেন্টকর্মী বাবা সোহেল মিয়া পরিবার নিয়ে কদিম দেওহাটা গ্রামের মাজাহারুল এর ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুরে কদিম দেওহাটা এলাকায় বদর মিয়ার ভাড়া বাসার আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুজি করতে থাকেন। এসময় ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর থেকে হাত পা বাধা উলঙ্গ অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে পরিবারের লোকজন গিয়ে হাফিজার পরিচয় নিশ্চিত করেন।
খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করেন। এসময় দেওহাটা ফাঁড়ির এসআই নুরনবী ঘটনাস্থলে গেলে পরিবারের সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন নুরনবীকে নিরাপদে ঘটনাস্থল ত্যাগ করান।
পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ৩টায় খেলাধূলার জন্য বাড়ির সামনে মাঠে আসার পর নিখোঁজ হয়।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। ডায়েরী নম্বর ৪৬১। শিশু কন্যা হাফিজা নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় লোকজন নিয়ে দেওহাটা ফাঁড়িতে যান। সেখানে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) নুরনবীকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো তাদের সাথে খারাপ আচরণ এবং বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেন হাফিজার পরিবারের সদস্যরা। কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় রাতে থানায় ডায়েরী করা হয়।
পরেরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি একটি অচেনা নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে তাদের কাছে শিশুটি আছে বলে জানায় এবং ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। সন্তান পাওয়ার আশায় চার হাজার টাকাও পাঠায় হাফিজার বাবা। বাকি টাকা চেয়ে ফোন কেটে দেন। বিষয়গুলো এসআই নুরনবীকে অবহিত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। স্থানীয় লোকজন ফাঁদ পাতেন।
মুক্তিপনের টাকা দেয়া হবে বলে দুর্বত্তরা গোড়াই ও ক্যাডেট কলেজ গেটসহ বিভিন্ন স্থানের ঠিকানা দেন। সর্বশেষ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলা সদরের মা সিএনজি স্টেশনের ঠিকানা দেন। মুক্তিপনের টাকা দিতে এসে সন্ধায় স্থানীয় লোকজন উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের বাইমাইল গ্রামের জালাল সিকদারের ছেলে সাজিদ সিকদারকে (১৭) আটক করেন। এসময় সাজিদের পকেট থেকে মেয়েদের চুলের ক্লিপ উদ্ধার করা হয়। পরে ক্লিপসহ সাজিদকে দেওহাটা ফাঁড়ির এসআই নুরনবী ও কবীরুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় শিশু হাফিজার বাবা বদর মিয়া ১০ ফেব্রুয়ারি মির্জাপুর থানায় মামলা করেন।
হাফিজার চাচা শিপন মিয়া অভিযোগ করেন, ‘ভাতিজি নিখোঁজের এক সপ্তাহের মধ্যে এসআই নুরনবী ঘটনাস্থলে আসেননি। তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ ব্যবস্থা নিলে আমার ভাতিজি উদ্ধার হতো। পরিবারের পক্ষ থেকে অপরাধীদের সাথে এসআই নুরনবীরও শাস্তি দাবি করেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা মফিজুর রহমান জানান, কমপক্ষে ৪০-৫০ জন মানুষের উপস্থিতিতে আটককৃত সাজিদের কাছ থেকে পাওয়া চুলের ক্লিপ এসআই কবীরুল ও নুরনবীর কাছে দেয়া হয়েছে।
এসআই মোহাম্মদ নুরনবী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পুলিশের সহযোগিতায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজকে পরিবারের লোকজন আপনার উপর চড়াও হয়েছিলেন কেন জানতে চাইলে বলেন, তাদের অভিযোগ আমি এ ঘটনায় কোন কাজ করছি না।’
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। এসআই নুরনবীর বিরুদ্ধে পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তাছাড়া নুরনবীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয় সিনিয়র কর্মকতাদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানান।’








আপনার মতামত লিখুন
Array