মির্জাপুরে পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
মির্জাপুরে পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে সড়ক মেরামতের কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সাড়ে নয় লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক মেরামতের ওই কাজ দরপত্র ছাড়াই দেওয়া হয় জহুরুল নামের এক ঠিকাদারকে। কাজ শেষ হওয়ার পর দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ পেয়েও তা করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরেক ঠিকাদার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ৩০ মিটার সড়ক গত বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তিন মাস আগে উপজেলা প্রকৌশলী ক্ষতিগ্রস্ত ওই সড়ক মেরামতের জন্য তার ঘনিষ্ঠ এক ঠিকাদারকে মৌখিকভাবে কাজ করতে বলেন। অনুমতি পেয়ে ওই জহুরুল নামের ঠিকাদার কাজ শুরু করেন।

এদিকে কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ওই সড়কটি মেরামতের জন্য দেড় মাস আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে অংশ নেন ৩২ জন ঠিকাদার। দরপত্র যাচাই বাছাই শেষে ওই ৩০ মিটার সড়ক মেরামতের কাজ পায় মির্জাপুরের রঞ্জন দত্ত নামের এক ঠিকাদার। কাজ পাওয়ার পর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ওই সড়কে গিয়ে দেখেন, ঠিকাদার জহুরুল কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবগত করলে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন জানতে পারেন, উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশেই জহুরুল নামের ব্যক্তিকে দিয়ে কাজটি করানো হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি মেরামতে ব্যস্ত। দুই স্তরে ইট পাতার কথা থাকলেও তারা এক স্তর করে ইট পেতে (ম্যাকাডাম) যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, যেভাবে ইট পাতা হচ্ছে, আগামী বর্ষা মৌসুমে আবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা যোগসাজশে করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এ কাজ করছেন।

দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রঞ্জন দত্ত জানান, দরপত্রের আগেই সড়কটির প্রায় শেষ করে ফেলে এক ঠিকাদার। তাই তিনি কাজটি করতে পারেননি।

মৌখিকভাবে কাজ পাওয়া নিয়ে ঠিকাদার জহিরুল জানান, তাকে অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। তাই তিনি কাজটি করেছেন। তবে কাজে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি। যে ঠিকাদার অফিসিয়ালি কাজটি পেয়েছেন তার সাথে সমন্বয় করেই কাজটি করছি।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন জানান, সড়ক দেবে যাওয়ায় ৩০ মিটার সড়ক মেরামতের জন্য এক ঠিকাদারকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল। তাই ওই ঠিকাদার কাজটি সম্পন্ন করেছে। দরপত্রে যে কাজটি পেয়েছে তার সাথে সমন্বয় করে কাজ শেষ করা ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করা হবে।

সংবাদটি shomoyeralo.comওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যের সঠিকতা ও মালিকানা বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে অনুগ্রহ করে মূল সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।