গাজায় স্পেনের জয়োৎসব, মাদ্রিদে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ে আনন্দে ভাসছে পুরো স্পেন। তবে এই জয়ের ঢেউ কেবল ইউরোপের বুকেই আটকে থাকেনি, পৌঁছে গেছে হাজার মাইল দূরের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাতেও! স্পেনের জয়ে গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝেও রীতিমতো উল্লাসে ফেটে পড়েন ফিলিস্তিনিরা।
অন্যদিকে, স্প্যানিশরাও তাদের পরম আরাধ্য শিরোপা উদযাপনের মুহূর্তে ভুলে যাননি ফিলিস্তিনকে।
গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসন ও ভয়াবহ যুদ্ধে গাজা এখন বলতে গেলে মৃত্যুপুরী।
চারদিকে কেবলই ধ্বংসের চিহ্ন। তবে স্পেনের বিশ্বকাপ জয় এই অবরুদ্ধ উপত্যকার মানুষের জীবনে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসির ঝলক নিয়ে এসেছে।
নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় শিরোপাটি স্প্যানিশরা ঘরে তোলার পর শত শত ফিলিস্তিনি গাজার রাস্তায় নেমে আসেন। ধ্বংসস্তূপের মাঝেই স্প্যানিশদের স্বাগত জানিয়ে নানা স্লোগান দেন এবং আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন তারা।
গাজায় যখন স্পেনের জয়োৎসব চলছে, ঠিক তখনই স্পেনের রাস্তায় দেখা গেল আরেক অভূতপূর্ব দৃশ্য। শিরোপা জয়ের পর স্পেনের মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসা হাজারো সমর্থকের হাতে দেখা যায় ফিলিস্তিনের পতাকা। নিজেদের উৎসবের মাঝেও তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সমস্বরে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বা ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন’ স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের এই উদ্যাপন প্রমাণ করেছে, ফুটবলীয় আনন্দের মাঝেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি স্প্যানিশদের জোরালো সমর্থন অটুট রয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি স্প্যানিশ ফুটবলারদের এই ভালোবাসার শুরুটা অবশ্য নতুন নয়। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালও এর আগে ফিলিস্তিনের পক্ষে নিজের দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছিলেন।
২০২৫-২০২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে স্প্যানিশ লিগ (লা লিগা) জয়ের পর উদযাপনের সময় ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা গিয়েছিল তাকে। ইয়ামালের সেই সাহসী পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের মন জয় করে নিলেও, ইসরায়েলিদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
খেলা যে শুধু বিনোদন নয়, বরং কাঁটাতারের সীমানা পেরিয়ে দূর-দূরান্তের মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে সেতু তৈরি করতে পারে গাজা ও স্পেনের এই সমান্তরাল উদ্যাপন যেন তারই এক অনন্য উদাহরণ।







আপনার মতামত লিখুন
Array