ঘাটাইলে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলে তীব্র ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
ঘাটাইলে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলে তীব্র ক্ষোভ

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘোষণা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আসনটিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসিরকে। তাকে মনোনয়ন দেওয়ার পরপরই লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছে সাবেক মন্ত্রী, চারবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদের কর্মী-সমর্থকরা।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার ও বুধবার (৪-৫ নভেম্বর) টানা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করে লুৎফর রহমান খান আজাদের কর্মী-সমর্থকরা। তারা দাবি তোলেন, তৃণমূলের কোনো সমর্থন না নিয়ে এস এম ওবায়দুল হক নাসিরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ঘাটাইলবাসী চান, যার জনপ্রিয়তা বেশি ও তৃণমূলের জন্য যিনি কাজ করবেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হোক। যে পর্যন্ত ঘাটাইল আসনের বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তন না করা হবে, সেই পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে বলে হুঁশিয়ারি করেন তারা।

এসময় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদ, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম দুলাল, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক খুররম মাসুদ সিদ্দিকী, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাগর, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. আল আমিন খান, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মুরাদ হাসান রুবেলসহ অঙ্গসংগঠনে নেতা-কর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করা অনেক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু কেন্দ্র থেকে যাকে ঘাটাইল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি অন্য একটি উপজেলার বাসিন্দা। তাই আসনটিতে তিনি বহিরাগত হিসেবেই সকলের কাছে গণ্য।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, ‘আমরা যারা বছরের পর বছর ধরে মাঠে আছি, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছি, আমাদের মতামত না নিয়ে বাইরের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূল তা মেনে নেবে না।’

উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা এলাকার মানুষের সঙ্গে দিনরাত কাজ করি। কিন্তু যাকে ঘাটাইলে দেখা যায়নি, তিনি হঠাৎ এসে মনোনয়ন পেয়ে গেলে সংগঠনের ভেতরে ভাঙন ধরবে। যিনি (এস এম ওবায়দুল হক নাসির) মনোনয়ন পেয়েছেন, তার বাড়ি ঘাটাইল নয়, সখিপুর উপজেলায়।’

পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দল বাঁচাতে হলে এলাকার পরীক্ষিত নেতাদেরই মনোনয়ন দিতে হবে। বাইরে থেকে এনে প্রার্থী দিলে কর্মীরা হতাশ হবেন। আমাদের সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান আজাদের বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো প্রার্থী দিলে কেউ মেনে নেব না।’

এ বিষয়ে ঘাটাইল পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অনুরোধ জানাই, তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিন। তৃণমূলই বিএনপির শক্তি। তাদের উপেক্ষা করলে নির্বাচনী মাঠ দুর্বল হয়ে পড়বে।’ এর আগে গত ৩ নভেম্বর রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭টি আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের মধ্যে ৭টি ঘোষণা করা হয়। টাঙ্গাইল সদর-৫ অপ্রকাশিত রাখা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও স্থানীয় মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত না হলে ঘাটাইলে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় তীব্র বিভাজন তৈরি হতে পারে।