টাঙ্গাইল শহরে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশায় জট, নাগরিক জীবন স্থবির
টাঙ্গাইল শহরের পৌরসড়কগুলোতে অনুমোদনহীনভাবে তৈরি শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার চলাচলের কারণে শহর প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অফিস-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাচলের সময় শহরের প্রধান সড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ নাগরিকরা।
পৌরসভার লাইসেন্স শাখার তথ্য অনুযায়ী, সাবেক মেয়র সিরাজুল হক আলমগীরের সময় ৬ হাজার প্যাডেল রিকশার লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে লাইসেন্সগুলো ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পৌরসভা আইনের পরিপন্থী। অনেক মালিক একই নামে একাধিক লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা ক্রয় করে চালকদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন।
শহরে বাস্তবে ৬ হাজার লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও, ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশা বিভিন্ন অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে। সরজমিনে চিলাবাড়ি এলাকার মা-মটরস কারখানায় দেখা যায়, কারিগররা কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই রিকশা ও অটোরিকশা তৈরি করছেন। কারখানায় ১২ বছরের শিশু শ্রমিকও ওয়েল্ডিং করছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ও অপ্রশিক্ষিত ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে শহরে যানজট এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। এডভোকেট ও শিক্ষকদের মতে, এই অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শহরের রাস্তাঘাট চরমভাবে ব্যাহত হবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অবৈধ রিকশা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানার সন্ধান পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরসভা প্রশাসক মো. শিহাব রায়হানও জানিয়েছেন, দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনা করে শহরকে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশামুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।







আপনার মতামত লিখুন
Array