ঘাটাইলে লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ
টাঙ্গাইল ঘাটাইল উপজেলার পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গলের গভীরে প্রতিদিনই চলে এক ভিন্নরকম জীবন সংগ্রাম। হাতে বাঁশের লম্বা খুঁটি, কাঁধে ঝুড়ি নিয়ে সকালে তারা হারিয়ে যায় গাছপালা ঘেরা পাহাড়ি বনে। লক্ষ্য একটাই-পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ। এই ডিম বিক্রি করেই চলে তাঁদের সংসার। স্থানীয়ভাবে একে বলে ‘মানজাইল বা লাল পিঁপড়ার ডিম।
পাহাড়ি এলাকার পিঁপড়ার ডিম মাছের এক প্রিয় খাদ্য। অত্যন্ত লোভনীয় টোপ হিসাবে ব্যবহার করেন শৌখিন মৎস্য শিকারিরা। টাঙ্গাইল সদর, এলেঙ্গা ও ময়মনসিংহ এলাকার বেশ কয়েকটি হাটে পিঁপড়ার ডিম বিক্রি হয়। প্রতিকেজি ডিম বিক্রি হয় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়।
পিঁপড়ার ডিম সংগ্রাহক ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা গ্রামের শুকুর আলী ও ঘাটাইলের গারোবাজার এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানান, বছরের ৪-৫ মাস পাহাড়ে সাধারণত কোনো কাজ থাকে না। এই সময় পেটের ভাত জোগাড় করতে তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বেছে নেন। পাহাড়ি এলাকায় বন-জঙ্গলে পিঁপড়ার ডিমের খোঁজে তাঁদের পাহাড়ের উঁচু ডালে উঠতে হয়। পিঁপড়ার কামড়ে হাত-পা ফুলে যায়, জ্বালাপোড়া করে। তাছাড়া রয়েছে সাপ ও মৌমাছির আক্রমণের ভয়। তবুও পেটের দায়ে সব সইতে হয়। একজন সংগ্রাহক দিনে গড়ে হাফ কেজি থেকে ১ কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পারেন। তা বিক্রি করেই চলে তাঁদের সংসার।
ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন বলেন, ঘাটাইলের পাহাড়ি এলাকায় প্রকৃতিনির্ভর এই জীবিকার সঙ্গে বেশকিছু পরিবার যুক্ত রয়েছে। তবে এই ধারাটি টিকিয়ে রাখতে বন সংরক্ষণ জরুরি। কারণ বন ধ্বংস হলে শুধু প্রাণী নয়, মানুষের জীবিকার পথও বন্ধ হয়ে যাবে। চরম দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব এবং জীবন ধারণের এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ-সব মিলিয়ে তাদের টিকে থাকার লড়াই অত্যন্ত কঠিন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এই ঝুঁকি ও মানবিক দিক বিবেচনা করে, তাহলে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহের ঝুঁকিপূর্ণ জীবিকার বিকল্প হিসাবে এই মানুষদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা সরকারি সহায়তা জরুরি।






আপনার মতামত লিখুন
Array