তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বাড়ল ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বাড়ল ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকিং খাতে শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে রেকর্ড ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের এই বড় লাফ দেশের আর্থিক খাতের চরম সংকটের চিত্রকেই ফুটিয়ে তুলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৩২.২৬ শতাংশ। এর আগে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের যে স্থিতি ছিল, মাত্র ৯০ দিনের মাথায় তা এক লাফে প্রায় সাড়ে ৩১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেল।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দা, ব্যবসায়িক মন্দাভাব এবং ঋণ আদায়ে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপের অভাবের কারণেই খেলাপি ঋণের পাহাড় ক্রমান্বয়ে বড় হচ্ছে। বড় ঋণগ্রহীতাদের একটি বড় অংশের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ না করার প্রবণতা এবং খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ নেওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। উল্টো প্রতি প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের এই রেকর্ড বৃদ্ধি সাধারণ আমানতকারীদের মনে ব্যাংক খাতের প্রতি এক ধরনের অনাস্থা তৈরি করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিতরণকৃত ঋণের ৩২ শতাংশের বেশি খেলাপি হয়ে পড়া যেকোনো দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সংকেত। এই পরিস্থিতি ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং উচ্চ খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে আজও আন্দোলনে গ্রাহকরা
ফলে অনেক ব্যাংকই বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে, যা পুরো অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাগামহীন এই খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি সংস্কার এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকি এখন সময়ের দাবি।