টাঙ্গাইলে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে স্থবিরতা, জনভোগান্তি চরমে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
টাঙ্গাইলে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে স্থবিরতা, জনভোগান্তি চরমে

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার-লাউহাটী-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজ যেন শেষই হচ্ছে না। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশে ঠিকাদারের ধীরগতির কারণে নির্মাণকাজ মাঝপথে থেমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকটি উপজেলার মানুষ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২৪ দশমিক ৬৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হয়। পাঁচটি প্যাকেজে ২০২৪ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে টাঙ্গাইল অংশে নির্মাণকাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও কাদাপানির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাকসহ পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন চালক ও যাত্রীরা।

ট্রাকচালক সবদুল মিয়া বলেন, সড়কের পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্তে পড়ে গাড়ির চাকা আটকে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে।

সিএনজি চালক জিয়াউর রহমান বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়ক দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিনই গাড়ি মেরামতের পেছনে আয়ের বড় অংশ চলে যাচ্ছে। ফলে পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কাজ শেষ করে সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সড়কটি চালু হলে টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও চৌহালীসহ বৃহৎ এলাকার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে এবং উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সড়ক যোগাযোগও আরও গতিশীল হবে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিল না পাওয়ায় কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ ও সড়কের পাশের স্থাপনা অপসারণে জটিলতার কারণেও কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজ শুরু করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রুহুল আজম বলেন, প্রকল্পের টাঙ্গাইল অংশে প্রায় ৬ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ পুরোপুরি চালু না করায় আইসিসিএলের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে নির্মাণকাজ চালু করা হয়েছে।