তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল কোচরা অবহেলিত, নেই কোনো সম্মাননা ও প্রণোদনা
দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর তৃণমূল পর্যায়ের কোচরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও স্বীকৃতির অভাবে ভুগছেন। জাতীয় দল সাফল্য পেলেও মাঠ পর্যায়ে ঘাম ঝরানো এই কোচদের জন্য নেই কোনো সরকারি সম্মাননা, আর্থিক প্রণোদনা কিংবা পেশাগত নিরাপত্তা। খেলোয়াড় তৈরি হলেও কোচরা রয়ে যান পর্দার আড়ালে।
মফস্বল ও গ্রামের মাঠগুলোতেই মূলত ফুটবলের ভিত গড়ে ওঠে। সেখানকার কোচরা নিজের পকেটের টাকা খরচ করে, বিনা পারিশ্রমিকে ছেলেদের প্রশিক্ষণ দেন। সকাল-বিকাল মাঠে সময় দিলেও মাস শেষে তাদের হাতে থাকে না নির্দিষ্ট কোনো বেতন।
অনেক কোচই পেশায় সাংবাদিক, শিক্ষক, দিনমজুর কিংবা ছোট ব্যবসায়ী। ফুটবলটা করেন নিছক ভালোবাসা থেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কোচ বলেন, জাতীয় দল জিতলে সবাই ক্রেডিট নেয়। কিন্তু ১০-১২ বছর বয়স থেকে যে ছেলে এবং মেয়েটাকে আমরা গড়ে তুলি তার খবর কেউ রাখে না। আমাদের জন্য কোনো সম্মাননা, সার্টিফিকেট বা আর্থিক সহায়তা নেই।
তাদের দাবি, প্রতি বছর উপজেলা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো থেকে বড় বড় কোচদের পুরস্কার দেওয়া হলেও তৃণমূলের কোচরা বরাবরই বঞ্চিত থেকে যান।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে,আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জাপান বা ভিয়েতনামের মতো দেশ ফুটবলে এগিয়েছে কারণ তারা তৃণমূল কোচদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সম্মানী ও স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে সেটির বড় অভাব। কোচরা সম্মান না পেলে নতুন প্রজন্মও ফুটবলে আসতে উৎসাহ হারাবে।
তৃণমূল কোচরা সরকার ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছে ৩টি দাবি জানিয়েছেন:
১। জাতীয়ভাবে “বর্ষসেরা তৃণমূল কোচ” সম্মাননা চালু করা।
২। প্রতি উপজেলা ও জেলা কোচদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
৩। জাতীয় দলে খেলোয়াড় দেওয়া কোচদের বিশেষ পুরস্কার ও স্বীকৃতি।
ফুটবলকে বাঁচাতে হলে আগে ফুটবলের কারিগরদের বাঁচাতে হবে। নাহলে মাঠে প্রতিভা থাকলেও সঠিক পরিচর্যার অভাবে ঝরে যাবে হাজারো সম্ভাবনা।







আপনার মতামত লিখুন
Array