নতুন কুঁড়ি’ মঞ্চে বিজয়ী প্রেয়সী-শুভমিতার গল্প
এ বছর ‘নতুন কুঁড়ি’ মঞ্চে আলো ছড়িয়েছে দুই কণ্ঠ ‘ক’ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইলের প্রেয়সী চক্রবর্তী এবং ‘খ’ বিভাগে সেরা সুনামগঞ্জের শুভমিতা তালুকদার। বয়সে ছোট হলেও সংগীতচর্চায় পরিশ্রম, মনোযোগ এবং আত্মবিশ্বাসে তারা যেন পূর্ণাঙ্গ দুই শিল্পী।
দুই দশকের দীর্ঘ বিরতির পর গত সেপ্টেম্বরে নাম নিবন্ধনের মাধ্যমে আবার শুরু হয়েছিল ‘নতুন কুঁড়ি’। এ কারণে এ রিয়েলিটি শো নিয়ে সবারই কমবেশি আগ্রহ ছিল।
প্রেয়সীর বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইল সদরের আকুরটাকুরপাড়ায়। পরিবারের সবার সংগীতপ্রেম যেন তাকে খুব ছোট বয়সেই অনুশীলনের প্রতি শৃঙ্খলিত করেছে। সরকারি চাকরিতে কর্মরত মা-বাবা ব্যস্ত থাকলেও ঘরেই চলত গান শেখার প্রাথমিক পাঠ। বড় বোন শাস্ত্রীয় সংগীতে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন যেন প্রেয়সীর সামনে থাকা জীবন্ত অনুপ্রেরণা। পরে সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তালিমে তার কণ্ঠ আরও পরিণত হয়।
‘নতুন কুঁড়ি’র মঞ্চে আধুনিক, রবীন্দ্র ও নজরুলসংগীতে দক্ষতা দেখিয়ে স্বাভাবিকভাবেই পৌঁছে যায় সেরাদের তালিকায় শাহীন ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভবিষ্যৎও সাজাচ্ছে সংগীতকে কেন্দ্র করেই। তবে এখনই নিজেকে কোনো বিশেষ ধারায় আটকে রাখতে চায় না সে। তার কথায়, ‘চর্চাই ঠিক করবে আমি কোন পথে এগোব।’
সুনামগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এবং সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির চতুর্থ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী শুভমিতা তালুকদারের যাত্রায় রয়েছে ধারাবাহিকতা ও আত্মবিশ্বাস। তার মা শান্তনা সরকার সুনামগঞ্জ সদরের ইয়াকুব উল্লাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান পড়ান। বাবা দ্বীপন কুমার তালুকদার ছাতকের জাউয়াবাজার পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। বাবার পরিবারের কেউ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে না থাকলেও মা সংগীতচর্চা করতেন।
মামার পরিবারের অনেকে সংস্কৃতিমনা। প্রথম গান শেখা মায়ের কাছে, তারপর জেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং ব্যক্তিগত শিক্ষকের কাছ থেকে কঠোর প্রশিক্ষণ। বাড়িতে প্রতিদিনের অনুশীলন, জাতীয় শিশু পুরস্কার এবং শিক্ষা সপ্তাহে স্বীকৃতি সব মিলিয়ে তার সংগীতচর্চা এক ধাপে নয়, বরং সিঁড়ি বেয়ে এগিয়েছে। শুভমিতার সংগীতগুরু ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি সংগীত প্রশিক্ষক ও ষোলঘর সরকারি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার চন্দ এবং গীতবিতান বাংলাদেশের অধ্যক্ষ অনিমেষ বিজয় চৌধুরী।
‘নতুন কুঁড়ি’র মঞ্চে এসে সেই প্রস্তুতির ছাপ মিলেছে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানে সমান পারদর্শিতায়। ফল ঘোষণা হওয়ার পরও সে নিজেই অবাক, ভাবেনি সেরা হবে। তার স্বপ্নও প্রেয়সীর মতোই সব ধরনের গান শেখা, পরে নিজের পথ বেছে নেওয়া।






আপনার মতামত লিখুন
Array