নির্বাচনী হালচাল : টাঙ্গাইল-৩
ঘাটাইলে বিএনপি’র দ্বিমুখী লড়াই !
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির দ্বিমুখী লড়াই শুরু হয়েছে। পৌষের হাড় কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে নির্বাচনী ‘আচরণবিধি মেনে প্রার্থীরা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসিরের সঙ্গে ভোটযুদ্ধে মাঠে নেমেছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেকমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ। ধানের শীষের প্রার্থীর দাবি দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী। অন্য প্রার্থীরা এ আসনে প্রতিযোগিতায় আসতে পারবে না এমন দাবির স্থানীয় ভোটারদের। তাদের দাবি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই লুৎফর রহমান খান আজাদকে বিজয়ী করবে। আর ঘাটাইলের মাটি ও মানুষের সাথে পরিচয়ের ঘাটতি থাকায় দলীয় মনোনয়ন পেলেও অনেকটা পিছিয়ে আছেন ওবায়দুল হক নাসির। ঘাটাইল উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৩ আসন। এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসিরকে। এই মনোনয়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেকমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদের সমর্থকরা। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক বন্ধ করে দেয় তারা ওবায়দুল হক নাসিরের বিরুদ্ধে আওয়ামী এজেন্ট দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ করে। এরপর ‘আমরা সবাই ঘাটাইলবাসী, আজাদ ভাইকে ভালোবাসি/বহিরাগতের ঠিকানা এই ঘাটাইলে হবে না’- এমন স্লোগানে ঘাটাইল উপজেলার প্রতিটি গ্রাম পাড়া মহল্লা করে মুখরিত হয়ে ওঠে। ভোটের মাঠে আজাদ অনুসারীদের প্রধান স্লোগানই হচ্ছে এমনটা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট ওবায়দুল হক নাসিরের পথ চলা খুব কঠিন। তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বহিরাগত ইসু। তিনি বাসাইলের বাসিন্দা হওয়ায় নির্বাচনে ঘাটাইলবাসী বহিরাগত ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি- লুৎফর রহমান খান আজাদ নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলছেন, আপনাদের ভালবাসার ঋণ শোধ করতে নির্বাচনে এসেছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনাদের পাশে থাকতে চাই। তাছাড়া ঘাটাইলের মাটির সঙ্গে লুৎফর রহমান পান আজাদের টান অনেক গভীর। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন সং মানুষ। তার এ ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই বিজয়ী করতে পারে।
১৯৯১ সালের প্রথম নির্বাচনে রেকর্ড ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন লুৎফর রহমান খান আজাদ। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান খান শাহজাহানের মতো হেভিওয়েট প্রার্থী অংশ নেন। এবারের নির্বাচনে লুৎফর রহমান খান আজাদের চেয়ে কোন হেভিওয়েট প্রার্থী নেই। ঘাটাইলে। লুৎফর রহমান খান আজাদ এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাকে নিয়ে নিয়মিত নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তোফাজ্জল হক সেনটু, টাংগাইল জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ঘাটাল পৌরসভার সাবেক মেয়র মনজুরুল হক মঞ্জু, ঘাটাইল পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা বিএনপি নেতা বিআরডিবি ঘাটাইলের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদসহ উপজেলা বিএনপি’র সকল সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি’র ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে লুৎফর রহমান খান আজাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট ওবায়দুল হক নাসির মাঠে নেমেছেন তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে। তিনি বাসাইলের বাসিন্দা হওয়ায় ঘাটাইলের মাটি ও মানুষের সাথে তার পরিচয়ের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তাই তার সাথে সাধারণ মানুষের দূরত্ব রয়েছে। তারপরও দলীয় মনোনয়নকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিদিনই তিনি ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও উঠান বৈঠক করছেন। তার পক্ষে কাজ করছেন দলের উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তবে তার সমস্যা হচ্ছে তিনি বহিরাগত হওয়ায় বর্তমান কমিটির অনেক নেতাকর্মী সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। আবার বর্তমান কমিটির অনেকেই মাঠে নেমেছেন লুৎফর রহমান খান আজাদের পক্ষে। তাই ওবায়দুল হক নাসির দলীয় মনোনয়ন পেলেও অনেকটাই পিছিয়ে আছেন তিনি।
আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন এনসিপির মনোনীত প্রার্থী থাকলেও তারা তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন না। জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী হোসনে মোবারক বাবুলের সাধারণ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও দুইজন হেভিওয়েট প্রার্থীর কাছে তার এই গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ঘাটাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র আজাদ অনুসারী নিতিনির্ধারকদের শীর্ষে থাকা মনজুরুল হক মঞ্জু জানান, লুৎফর রহমান খান আজাদ ৩৭ বছরের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা। তিনি চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।






আপনার মতামত লিখুন
Array