টাঙ্গাইলে ১৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
টাঙ্গাইলে ১৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে টাঙ্গাইলের এক হাজার ৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬০টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যা মোট ভোটকেন্দ্রের ১৫.০৫ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায়।

জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ৬ হাজার ৩৪১টি। জেলার আটটি আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। এর মধ্যে মধ্যে নারী ভোটার ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন, পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৫ জন।

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র:

সূত্রমতে, টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের ১৪৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে মধুপুরের ১৫টি এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ১২টি কেন্দ্র। এ আসনে চার লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ জন ভোটারের জন্য ভোটকক্ষ রয়েছে ৮৪০টি।

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) সংসদীয় আসনটি ১৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে গোপালপুরে ১৫টি এবং ভূঞাপুর উপজেলায় রয়েছে ১৮টি। চার লাখ ১৮ হাজার ৬০৬ জন ভোটারের এ আসনে ভোটকক্ষ রয়েছে ৮০০টি।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনটি একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এখানে ১২২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। তিন লাখ ৮২ হাজার ৭২০ জন ভোটারের এ আসনে ভোটকক্ষ রয়েছে ৭১৩টি।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) সংসদীয় আসনটি ২টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আসনে ১১৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এ আসনের তিন লাখ ৭৪ হাজার ৯১৭ জন ভোটারের জন্য ভোটকক্ষ রয়েছে ৬৮৪টি।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনটি একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এখানে ১৩০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ। চার লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন ভোটারের জন্য আসনটিতে ভোটকক্ষ রয়েছে ৯১০টি।

টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনটি ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ সিটের ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে দেলদুয়ার উপজেলায় ১৬টি এবং নাগরপুর উপজেলায় ১৫টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এ আসনের চার লাখ ৬৮ হাজার ৭৬ জন ভোটারের জন্য ভোটকক্ষ রয়েছে ৮৮৪টি।

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনটি একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ সিটে ১২৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এ আসনের তিন লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭ জন ভোটারের জন্য ভোটকক্ষ রয়েছে ৭২৬টি।

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনটি দুইটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ সিটে ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে বাসাইল উপজেলায় পাঁচটি এবং সখীপুর উপজেলায় আটটি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। চার লাখ ১৪ হাজার ৮২৬ জন ভোটারের জন্য আসনটিতে ভোটকক্ষ রয়েছে ৭৮৪টি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দূরবর্তী অঞ্চলে অবস্থান, যানবাহন আসা-যাওয়ায় অসুবিধা, দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং প্রার্থীর বাড়ির সামনে ভোটকেন্দ্র বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, সব কেন্দ্রই ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনের দিন পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও মোতায়েন করা হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।